‘প্রফেসর ফারুককে কটাক্ষকারী বিএসটিআই’র কর্মকর্তার শাস্তি দেয়া উচিত’

শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯

ঢাকা : গবেষণার মাধ্যমে প্রফেসর আ ব ম ফারুকের পাস্তুরিত দুধে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিক প্রতিবেনকে বিএসটিআই’ যে কর্মকর্তা কটাক্ষ করেছিলেন তার শাস্তির দাবি জানিয়েছে চ্যারিটি মানবকল্যাণ সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংগঠনটিপাস্তুরিত, খোলা দুধ ও খাদ্যে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে তফজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘খাদ্যে ভেজাল নকল ওষুধ প্রস্তুত ও আমাদের দায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ দাবি জানায়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তবে রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে প্রফেসর আ ব ম ফারুক, তিনি যে ঝুঁকিটা নিলেন, এরপর এই পাস্তুরিত দুধের কারবারিরা বললো এগুলো (গবেষণা) ঠিক না। পরে রিসার্চে দেখা গেলো ১৮টি পন্যের মধ্যে ১১ টিতে অতিরিক্ত লেড পাওয়া গেছে। তাহলে কি হলো? ওই ভদ্রলোককে তো হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এখন আমি আজকে এখান থেকে দাবি করবো, বিএসটিআই এর যে কর্মকর্তা আ ব ম ফারুকের রিসার্চকে কটাক্ষ করেছিলেন তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত। একই সাথে পাস্তুরিত দুধের কোম্পানিগুলো এবং যারা খাদ্যে টেক্সটাইলের রঙ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হোক। ভ্যাজালের জন্য মৃত্যুদন্ডের আইন আছে, তাহলে সেটা কার্যকর করা হোক। আমি আরও একটু বাড়িয়ে বলবো, সেই মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে দেওয়া হোক।’

সিনিয়র সাংবাদিক সাজেদা হক বলেন, ‘এক সময় এসিড মারা হতো, কিন্তু তখন কঠোর ভাবে শাস্তি প্রয়োগ করায় তা নির্মুল করা সম্ভব হয়েছে। তেমনি খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তবেই ভেজাল রোধ করা যাবে।’

বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরামের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, ‘সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায়, বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার রিসার্চ ইন্সটিটিউট, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চ, পরমাণু শক্তি কমিশন ও আইসিডিডিআরবি ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ, খোলা দুধ ও গো খাদ্য পরীক্ষা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সে পরীক্ষায় বিএসটিআই এর অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টি পাস্তুরিত দুধে সীসা পাওয়া গেছে। কোম্পানিগুলো হল- মিল্কভিটা, ডেইরী ফ্রেশ, ইগলু, ফার্মফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আড়ং ডেইরি, প্রাণ মিল্ক, আয়রন, পিউরা ও সেইফ মিল্ক।

তারা আরও বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ভ্যাজালের বিরুদ্ধে কঠোর হবে। খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষধ প্রস্তুতিকারিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম নুরুদ্দিন খান, লেখক, গবেষক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন প্রমুখ।