ইসলামে হাজিদের মর্যাদা

শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯

ঢাকা : হজ ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক। আরবি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজের জন্য নির্ধরিত সময়। হজ পালনের জন্য বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নগরী এবং সন্নিহিত মিনা, আরাফাত, মুযদালিফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক। ‘

যিনি হজ সম্পাদনের জন্য গমন করেন তাকে বলা হয় হাজি। হজ মুসলমানদের দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান ও ইজ্জতের আসন দান করে, সৌভাগ্যের দরোজা খুলে দেয় প্রকৃত হাজির জীবনে।

সঠিকভাবে হজ সম্পাদনকারীকে আল্লাহ তায়ালা নিষ্পাপ করে দেন। জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা ও স্থান দান করেন।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর পথের মুজাহিদ এবং হজ ও ওমরাকারী হলো আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন আর আল্লাহও তাদের প্রার্থনা কবুল করেন।’ (ইবনে মাজাহ)।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘হজ ও ওমরাকারীরা হলো আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন আর আল্লাহও তাদের প্রার্থনা কবুল করেন।’

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুল (স.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি হজ করে এবং অশ্লীলতা ও কটুক্তি থেকে বিরত থাকে সে এমনভাবে ফিরে আসে করে, তার মা যেভাবে তাকে প্রসব করেছিল।’ (বুখারি)।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন-

(১) যে ব্যক্তি আল্লাহর কোনো মসজিদের উদ্দেশে বের হয়।
(২) যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে বের হয়। আর
(৩) যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশে বের হয়।’

নারীদের হজের ফজিলত: হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (সা.) আমরা জেহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করি। তাহলে আমরা (নারীরা) কি জেহাদ করব না? প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না’। তোমাদের জন্য উত্তম জেহাদ হলো মাবরূর হজ।’ (বুখারি)।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে সঠিক আক্বিদা বিশ্বাসের সঙ্গে যথাযথভাবে হজ পালন করে নিষ্পাপ হয়ে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরাকলের স্বচ্ছলতা ও সফলতা দান করুন। আমিন।