আরজিনার ভয়ঙ্কর পরকীয়া কাহিনী!

শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯

রাজধানীতে অপরাধপ্রবণতা আগের চেয়ে অনেক গুন বেড়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক দ্বন্দ্ব রূপ নিচ্ছে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায়। খুন, নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে দিন দিন। এদিকে অপরাধ বিশ্লেষণরা বলছেন নগরায়ন ও প্রযুক্তির প্রভাবে নতুন নতুন অপরাধে জড়াচ্ছে মানুষ। আর সব ক্ষেত্রেই মূল্যবোধের অবক্ষয়কে দুষছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

স্কুল ছাত্র শাওন চেষ্টা করেছিল বাঁচতে কিন্তু বেঁচে ফেরা আর সম্ভব হয়নি। ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মা শামসুন্নাহার এর সাথে প্রাণ দিতে হয় তাকেও। বাবার একাধিক বিয়ে, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ এসব ঘিরেই ঘুরছে কাকরাইলের জোড়া খুনের রহস্য।

শাওনের রক্ত যখন সিঁড়িতে শুকাইনি তখনি রাজাধানির উত্তর বাড্ডায় নির্মমতার শিকার ৯ বছরের নাসরিন। বাবার খুন দেখে ফেলায় তাকেও হত্যা করে ঘাতক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী মায়ের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বলি এই বাবা ও মেয়ে। মা আরজিনার পরকীয়ার সম্পর্কের কারণেই এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। এই খুনের একদিন পরেই নগরীর কলাবাগানে খুন হয় আদিবাসী এক তরুণী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালের আগস্টে রাজধানীতে খুন হয়েছে ২২টি, সেপ্টেম্বর ১৪টি আর অক্টোবরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬টিতে।

একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ছিল যথাক্রমে আগস্টে ১৮৬ জন, সেপ্টেম্বরে ১৬৭ জন ও অক্টোবর ১৬২ জন।

অপরাধ বিশ্লেষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, পর্নোগ্রাফি, মেয়েদের প্রতি সহিংসতা, সাইবার ক্রাইম, সামাজিক পরিবর্তন, জীবনযাত্রার পদ্ধতিতে পরিবর্তন, প্রযুক্তির প্রভাব, বিশ্বায়নের প্রভাব স্যাটেলাইট এর প্রভাব, সবকিছু মিলেই পরিবর্তনগুলো এসেছে। আশার কথা শুনানো যাবে কিন্তু বাস্তবতা সহজ না। সব অপরাধের বিচার হচ্ছে না। আবার কিছু অপরাধের বিচার তো হচ্ছে। কিছু কিছু অপরাধের শাস্তি হচ্ছে কিন্তু অপরাধ তো কমছে না।

সমাজ গবেষক অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, আমরা মূল্যবোধের চর্চা করার কোন সুযোগ পাচ্ছিনা। আমাদের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বা বাড়িতে পরিবারের মধ্যে ও মূল্যবোধ চর্চার সুযোগ ছিল না। আইন আছে তার প্রয়োগ নেই। যার কারণে মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। আর এই কারনেই সমাজে অনৈতিক কাজ ও অসামাজিক কাজ গুলো সংঘটিত হয়। আর এ থেকে পরিত্রান পেতে হলে সব জায়গায় মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।