জামালপুরে পানির নীচে রেললাইন, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯

জামালপুর : পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে জেলার ৫২টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার অন্তত ৫ লাখ মানুষ।

যমুনার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় গত চার-পাঁচদিন ধরে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া জামালপুর-তারাকান্দি হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে বুধবার রাত থেকে। মাদারগঞ্জের চর নাদাগাড়ীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে নতুন করে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় প্রাশাসন জানিয়েছে, পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সাথে ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৪১১৬টি পুকুরের প্রায় ২২ কোটি টাকার মাছ। বন্যার পানি ঢুকে ৪০১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই এলাকায়।

জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যায় চিকিৎসা সেবা দিতে ৮০ টি মেডিকেল টিম কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ৮৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।