তোপের মুখে সার্চ কমিটি

সমঝোতা ছাড়াই ছাত্রদলের কমিটি গঠনের বৈঠক শেষ

বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯

ঢাকা: ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতা নিরসনে ব্যর্থ হয়েছেন নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্বশীল সার্চ কমিটির নেতারা। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠকটি হয়। সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে এই সার্চ কমিটির সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ঈদের আগের দিন ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা, নতুন কমিটি গঠনে শর্তারোপ দেয়া এবং নতুন তফসিল ঘোষণার বিষয়ে বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। সার্চ কমিটির নেতারা ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের বক্তব্যের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তারা বলেছেন, দলের এখন দুর্দিন চলছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন রয়েছেন। এ অবস্থায় দলকে ভালোবেসে দলের নির্দেশ মানতে হবে। জবাবে সাবেক ছাত্রনেতারা জানান, তারা দলের জন্য কাজ করছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। এজন্যই তারা তাদের ন্যায্য দাবি করেছেন। কিন্তু দলের সিন্ডিকেট তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ছাত্রদলকে তাদের কব্জায় নিতে চাইছেন। এটা তারা করতে দেবেন না।

আরেকজন ছাত্রনেতা সার্চ কমিটির কয়েকজন নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা কি ছিলো? খালেদা জিয়া বন্দি রয়েছেন। এখনে আপনারা কি ভূমিকা রাখছেন? কয়েকজন নেতার উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত কমিটির ওই ছাত্রদল নেতা বলেন, আপনারা কত বছর বয়সে ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছিলেন? তখন কেন বেশি বয়সকে আপনাদের কাছে অন্যায় মনে হয়নি?

আরেকজন ছাত্রনেতা বলেন, ঈদের আগে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে সমস্যা তৈরি করেছেন আপনারা। সেই সমস্যা সমাধান না করে তফসিল ঘোষণা করেছেন। আবার বিক্ষুব্ধদের মার খাওয়ানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ থেকে নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জড়ো করেছেন। কেন এগুলো করেছিলেন?

বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের প্রশ্নবানের রোষানলে পড়ে কোন সমাধান ছাড়াই সার্চ কমিটির নেতারা কার্যালয়ের দ্বিতীয়তলায় উঠে যান।

তবে বৈঠক থেকে বের হয়ে ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির রাতে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাদের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্বল্পকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের চিন্তা ভাবনা হচ্ছে। আলোচনা চলছে আরও চলবে।

বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্যে সাবেক সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেনসহ আরও ৪০/৫০জন উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। এরপর থেকেই বিলুপ্ত কমিটির নেতারা ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে।

২২ জুন আন্দোলনকারী ছাত্রদলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে ছাত্রদলে সংকট সমাধানে দুই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দায়িত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। স্থগিত করা হয় কাউন্সিলের কার্যক্রম।