ইয়েমেন থেকে আমিরাতি সৈন্য প্রত্যাহারে নাখোশ সৌদি আরব

শুক্রবার, জুলাই ১২, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেন যুদ্ধের চোরাবালি থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে বেশিরভাগ সেনা প্রত্যাহার করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে সৌদি আরব মারাত্মক ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে খবর দিয়েছে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা বলে আসছেন যে, তারা ইয়েমেন থেকে ধীরে ধীরে তাদের সেনা সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছেন। কয়েক বছর আগে ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় ৫,০০০ সেনা মোতায়েন ছিল। এ খবর দিয়েছে পার্সটুডে।

তবে পশ্চিমা ও আরব কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে টাইমস জানিয়েছে, ঘোষণা দেয়ার আগেই ইয়েমেন থেকে বেশিরভাগ আমিরাতি সৈন্য সরিয়ে নেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত মাসে দেশটির লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী হুদায়দা থেকে আমিরাতের শতকরা ৮০ ভাগ সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এখন ওই বন্দরে মাত্র ১৫০ আমিরাতি সেনা অবস্থান করছে। সৈন্যর পাশাপাশি হেলিকপ্টার গানশিপ ও ভারী অস্ত্রসস্ত্রসহ অন্যান্য সমরাস্ত্রও সরিয়ে নিয়েছে আবু ধাবি। অবশ্য মান বাঁচানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে হুদায়দায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি হয় তার জের ধরে তাদের সেনা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, আরব আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার পর আবু ধাবি এখন একথা বুঝতে পেরেছে যে, প্রচণ্ড মানবিক সংকট সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধে হুথি আন্দোলনের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজের ভাবমর্যাদা রক্ষা করার লক্ষ্যে এমন একটি সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাল যখন তেহরানের সঙ্গে রিয়াদের উত্তেজনা বেড়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, “আমিরাতিরা এমন একটি যুদ্ধ থেকে সরে পড়তে চাচ্ছে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ কাজে মিত্র সৌদি আরব ক্ষুব্ধ হলেও আবু ধাবি তা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

আরব আমিরাতের এ সিদ্ধান্তে সৌদি আরব ‘চরম ক্ষুব্ধ’ হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন এমন একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে রাজি করানোর জন্য বিষয়টিতে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন সৌদি রাজদরবারের পদস্থ কর্মকর্তারা।” কিন্তু তাতে আবু ধাবি রাজি হয়নি। তবে এর আগে সৌদি কর্মকর্তারা যাতে অখুশি না হন সেজন্য সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি যথেষ্ট গোপন রেখেছিল আরব আমিরাত।