দিনটা শুরু করুন পজিটিভ এনার্জি নিয়ে

বুধবার, জুলাই ১০, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শুনতে একটু অবাক লাগতে পারে, কিন্তু এ কথা একশো শতাংশ সত্যি যে আপনি প্রতিটি দিন যেভাবে শুরু করেন তার একটা প্রভাব পড়ে আপনার জীবনে। অ্যালার্মের শব্দ হাত দিয়ে চেপে থামিয়ে আরো একটু বেশিক্ষণ ঘুম চুরি করে নেওয়ার অভ্যেস যাঁদের আছে, তাঁরা সকলেই জানেন যে এর ফলে কী মারাত্মক তাড়াহুড়োয় বাকি দিনটা কাটে। উঠতে দেরি হওয়া মানেই ব্যায়াম করা, খাওয়া কোনও কিছুর জন্যই সময় বের করতে পারবেন না আপনি। অফিসে পৌঁছতে দেরি হওয়া মানেই বসের হাঁড়িমুখ দেখতে হবে।

ঠিকমতো ব্রেকফাস্ট না করে অফিস গেলে কাজে মন বসাতে অসুবিধে হবে নিশ্চিতভাবেই, কাপের পর কাপ কফি খাবেন। লাঞ্চেও একগাদা উলটো-পালটা খেয়ে ফেলার সমূহ আশঙ্কাও রয়ে যায়। তার চেয়ে জীবনটাকে একটু গুছিয়ে নিন, কে না জানে যে মানুষ চাইলে যে কোনও দিন থেকেই নতুনভাবে সব কিছু শুরু করতে পারে!

সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা অভ্যেস করুন:
তাড়াতাড়ি ঘুমোনো আর সকালে জলদি ওঠার অভ্যেস থাকাটা খুব জরুরি। ঘুম থেকে উঠেই দৌড় শুরু করবেন না। রাতে ভালো ঘুম হলে সকালে উঠেই চা বা কফির কাপে চুমুক দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না – বরং কোনও একটা ফল খান, বাদামও চলতে পারে। একটুক্ষণ খোলা হাওয়ায় শ্বাস নিন, প্রাণায়াম করুন। পছন্দমতো শরীরচর্চাও করতে পারলে তো আর কথাই নেই!

নিজের ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ তৈরি করুন:
অধিকাংশ মনোবিদ বলেন যে সকালে কোনও পজ়িটিভ চিন্তা করলে দিনটা ভালো কাটে। নিজেকে সুস্থ রাখার চেয়ে পজ়িটিভ চিন্তা আর কী হতে পারে? অনেকেই মনে করেন যে রান্নাবান্না মানেই বিরাট ঝামেলার ব্যাপার। কিন্তু ব্রেকফাস্টে যদি আপনি ছাতুর ঘোল/ দুধ-মুড়ি/ দই-চিড়ে আর ডিম সেদ্ধ খান এবং লাঞ্চের জন্য ভাত-চিকেন স্টু/ মাছের ঝোল/ সবজি ডাল আর একটা স্যালাড বানিয়ে নেন তা হলে খুব বেশি সময় লাগবে না কিন্তু! স্ন্যাক্সের জন্য হাতের কাছে রাখুন মরশুমি ফল আর ছোলা-বাদাম ভাজা। রাখতে পারেন মুড়িও। লাঞ্চের মেনুটাই এদিক-ওদিক করে ডিনারেও চালিয়ে দেওয়া যায়।

বাগান করুন:
বিরাট মাপের বাগান করার মতো সময় সকলের হাতে না-ও থাকতে পারে, কিন্তু জানলার পাটায় কয়েকটা ফুল বা লঙ্কা-লেবু-ধনেপাতার গাছ তো রাখতেই পারেন! গাছে জল দিন, গোড়ার মাটি আলগা করুন। যেদিন ফুল বা ফল ধরবে, সেদিনের আনন্দটা অবর্ণনীয় হবে কিন্তু!

মোবাইল বা টিভি নিয়ে ব্যস্ত হবেন না:
সকালের সময়টা একান্তই আপনার নিজের, কাজের মেলগুলো একটু পরে দেখুন, তাতে কোনও ক্ষতি হবে না। খবর দেখাটাও না হয় অফিস যাওয়ার পথেই হবে। নিজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বেশি নজর দিন।

স্বামী, সন্তান বা পরিবারের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান:
সোশাল মিডিয়া আমাদের রোজের জীবনের অনেকটা সময় চুরি করে নিচ্ছে আজকাল। খুব ভালো হয় যদি আপনার স্বামী, বাচ্চা বা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে প্রতিদিন সকালে অন্তত ১০টা মিনিট নিশ্চিন্তে সময় কাটান। তখন ফোন বা ল্যাপটপ রাখবেন না হাতের কাছে।