ঘুম কমলে যেসব ক্ষতি হতে পারে

মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯

স্বাস্থ্য ডেস্ক : অনেক সময় দেখা যায় কাজ শেষ করতে অনেক রাত হয়ে যায়। আবার কর্মস্থানে যাওয়ার জন্য সকালে ঠিক টাইমেই ঘুম থেকে উঠতে হয়। এক্ষেতে ঘুম পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ হয় না। তবে এতে কিন্তু আপনার শরীরের অনেক ক্ষতি হতে শুরু হয়। শুধু তাই-ই নয়। যদি দেখেন আপনার এমনিতেই ঘুম কমে গেছে তাহলে আপনার মধ্যে এই রোগগুলো বাসা বাধতে শুরু করেছে-

১। ডিপ্রশন ডেকে আনে
কম ঘুমোচ্ছেন অথচ শরীর তো সুস্থই আছে। কিন্তু কাজে সবসময় মন বসছে না। হাজারও আবোলতাবোল কথা বনবন করে পাক খাচ্ছে মাথার মধ্যে। ইচ্ছাশক্তি কমে যাচ্ছে কিছুর প্রতি। এরপরেও বলবেন আপনি সুস্থ? বিশেষজ্ঞরা বলেন কম ঘুম সবচেয়ে আগে প্রভাব ফেলে মনে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে কম ঘুমের ফলে ডিপ্রেশনে ডুবে যেতে পারেন যে কোনও মানুষ।

২। বয়স বাড়বে ত্বকের
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বেড়ে যায় ত্বকের বয়স। শুনতে অদ্ভুত হলেও এটাই সত্যি। ঘুম ঠিকমত না হলে কর্টিসল নামের হরমোনের ক্ষরণ যায় বেড়ে। এটি নষ্ট করে দেয় ত্বকের কোলাজেনকে। এদিকে কোলাজেনের কাজ হল ত্বকের টানটান বাঁধন ধরে রাখা। তাই কোলাজেন গেল তো ত্বকের যৌবনও গেল। শুধু তাই নয়, চোখের নীচে কালি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডার্ক সার্কেল এর সংখ্যাও বেড়ে যাবে।

৩। দৈহিক সম্পর্কে ইচ্ছা কমবে
এতেও যখন বাধা আসে তখন মনটাই যাই বিগড়ে। কিছু সমীক্ষার ফলাফল দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন কম ঘুমের ফলে শরীরে সেক্স হরমোনের ক্ষরণ কমতে থাকে। শুধু তাই নয় , কমে যায় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হরমোন। এটি কমিয়ে দেয় দৈহিক মিলনের ইচ্ছাও।

৪। হৃদরোগ
ঘুমোচ্ছেন কম অথচ শরীর দেখাচ্ছে ফিট। ভাবছেন এভাবেই ফিট শরীর কেটে যাবে জীবন। কিন্তু শরীরের আসল ব্যাপারটা অন্যরকম যা আপনি হয়তো টেরও পাচ্ছেন না। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কম ঘুম বাড়িয়ে দেয় হৃদরোগের সম্ভাবনা। কম ঘুম হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনে ব্যাঘাত ঘটায়। দীর্ঘদিন কম সময় ঘুমোলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা তো কম নয়ই বরং হার্ট ফেইলিওরও হতে পারে। এছাড়াও ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস এর মত বিপজ্জনক রোগগুলোও চিরসঙ্গীর মতো আপনার শরীর বাসা বাঁধবে।

৫। ওবেসিটি
লোকে বলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মোটা হচ্ছে। অথচ কম ঘুমোনো সত্ত্বেও আপনি আগের তুলনায় মোটা হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এর জন্য দায়ী পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। পর্যাপ্ত না ঘুমোলে খিদে বেশি পায়, এমনটাও দেখা গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। বেশি খাচ্ছেন অথচ কম ঘুমের জন্য বিএমআর রেট সঠিক নয়। ফলে শরীরে জমছে অতিরিক্ত ফ্যাট যা ওবেসিটিতে গিয়ে দাড়াচ্ছে।