সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

সোমবার, জুলাই ৮, ২০১৯

ঢাকা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের আশ্বাসে রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বঘোষিত আন্দোলন স্থগিত করেছেন। সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ ও ক্রাস প্রোগ্রাম চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাত কলেজের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাদের আশ্বস্ত করেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নীলক্ষেতে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তাদের প্রতিনিধিদল উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এ সময় উপাচার্য তাদের আশ্বস্ত করলে তারা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, একসঙ্গে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশসহ একই বর্ষের সব বিভাগের ফল একত্রে প্রকাশ, গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশ ও খাতা পুনর্মূল্যায়ন, সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, প্রতিটি বিভাগে মাসে দুই দিন করে অধিভুক্ত সাত কলেজে মোট ১৪ দিন ঢাবি শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়া এবং সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাস প্রোগ্রাম চালু।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশসহ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি কার্যকর হতে ছয় মাস লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় উপাচার্য জানান, যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তারা নিজ কলেজে এ বিষয়ে আবেদন করতে পারবেন।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বকর সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা স্ব-স্ব কলেজে যোগাযোগ করবেন। যে আশ্বাস তাদের দেওয়া হয়েছে, কলেজে যোগাযোগ করে যদি তার প্রতিফলন দেখা না যায়, তারা আবারও আন্দোলনে যাবেন। সেই পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।