মৃত্যুর জন্য যে শহরে যান মানুষ!

শনিবার, জুলাই ৬, ২০১৯

ঢাকা : আপনি মৃত্যুকে কতটা কাছ থেকে দেখতে চান? কতখানি অপেক্ষা করেন মরে যাবার জন্য? জীবনের চরম আর বাস্তব এই সত্যকে মেনে নেবার জন্য কতখানি প্রস্তুত আপনি? মৃত্যু এমন এক বিষয় যার জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা আমরা কখনোই করি না। সুন্দর এই পৃথিবী, পরিবার, বন্ধু ছেড়ে হঠাৎ করে চলে যাওয়ার মতো সাহস হয়তো কেউ করে না। কিন্তু সব সময় এমনটি হয় না। কারণ এমন একটি শহর আছে যেখানে মানুষ যায় এবং অপেক্ষা করে শুধু মৃত্যুর জন্য!

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মতে, এই শহরে মৃত্যুর পর পবিত্র গঙ্গা নদীর তীরে শবদাহ হলে পরের জনমে মুক্তি মেলে। একইসঙ্গে মুক্তি মেলে পাপ থেকেও। বানারাসের ঘাটের সিঁড়িগুলো নদীতে গিয়ে মিশেছে। গঙ্গার পানিতে পাপ ধুয়ে যাবে এমন বিশ্বাস সবার মাঝে থাকলেও এই পানি এখন বর্জ্যের কারণে ধুসর বর্ণ।

প্রতিদিন শত শত ভ্রমণকারী এখানে ভিড় জমান। এখানে ধূমপান, যৌনক্রিয়া, যেকোনো ধরনের মাংস, ডিম পেঁয়াজ, রসুনের খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ। মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় বরণ করতে চাওয়া এই মানুষগুলো যেখানে থাকেন সেগুলোকে হোটেল না বলে বলা হয় পরিত্রাণের ঘর।

আর এখানে বসবাসকারীদের প্রক্রিয়াকে বলা হয় কাশীবাস। এখানে থাকা বিভিন্ন আশ্রমগুলোর মধ্যে ভবন নামের স্থাপনা সবচেয়ে পুরনো। এর ১১৬টি কক্ষের মধ্যে ৪০টি কাশীবাসীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়ে থাকে।

কাশীবাসীদের প্রত্যেককে তাদের ব্যক্তিগত সামর্থ অনুযায়ী প্রায় ১ লক্ষ রুপি দিতে হয়। তাদের একটি কক্ষ প্রদান করা হয় যেখানে তারা মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন। তাদেরকে আশ্রম থেকে খাবার দেয়া হয় না, তাদের প্রত্যেককে নিজেদের খাবার নিজেদেরই ব্যবস্থা করতে হয়।