নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিমুখী করতে সক্রিয় আ.লীগ

বৃহস্পতিবার, জুলাই ৪, ২০১৯

ঢাকা: তারুণ্যের মেধা, নতুন চিন্তাধারা, সৃজনশীল মনোভাব দেশকে সামনের দিকে অনেক দূর এগিয়ে নেয়। এসব বিবেচনায় নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্বের খোঁজ শুরু করছে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে দলের আগামী সম্মেলনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্ব খোঁজা হচ্ছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আগামী প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে দলে নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু হতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। এদিকে ক্ষমতাসীন এ দলটি দেশের তরুণ সমাজের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এরইমধ্যে তারুণ্যের ভাবনা নিয়ে তরুণ সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ৭০ বছর পার হওয়া আওয়ামী লীগ দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্ব আনার চিন্তা-ভাবনা এখন থেকেই শুরু করেছে। আগামী অক্টোবরে দলটির ২১তম জাতীয় সম্মেলনের সম্ভাবনা আছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিতে এরইমধ্যে শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের কমিটি গঠন করে সম্মেলন করতে চায় আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। আর এসব ইউনিট পর্যায়ের নেতৃত্ব তুলে দিতে অপেক্ষাকৃত তরুণদের খোঁজে রয়েছে তারা। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে দলটি। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেও এমন আভাস পাওয়া গেছে।

তৃণমূল নেতারা জানান, ২০তম জাতীয় সম্মেলনেও বেশ কয়েকজন তরুণকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। তাদের অন্তর্ভুক্তি দলে গতি সঞ্চার করেছে। তাদের সাংগঠনিক কাজের ‘পারফরমেন্সে’ সন্তুষ্ট দল। এ কারণে ২১তম সম্মেলনে তৃণমূল আওয়ামী লীগেও তরুণদের স্থান দিতে চায় দলটি। তাই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে এবার জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতারা সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণদের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দিতে কাজ করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার জেলা পর্যায়ে সম্মেলনে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি ইউনিটের বিভিন্ন পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের জায়গা করে দেয়া হতে পারে। তবে তাদের অবশ্যই রাজনৈতিক ত্যাগ যেমন থাকবে, তেমনি দক্ষতা-মেধাও থাকতে হবে।

এদিকে তরুণদের রাজনীতিমুখী করতে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দল। দেশের তরুণ সমাজের মনোভাব জানা এবং তারা আগামীতে কেমন আওয়ামী লীগ দেখতে চান এ বিষয়ে এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের মিডিয়া সেল, প্রচার প্রকাশনা উপ কমিটি ও দলের গবেষণা প্রতিষ্ঠান- সিআরআই। নিয়মিতভাবে তারা দেশের তরুণ সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন। তরুণদের সঙ্গে হওয়া ওই মতবিনিময় সভাগুলোয় তরুণদের সব তথ্য পরামর্শ ও পরিকল্পনার কথা শুনছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকেও দেশের তরুণ সমাজের ভাবনা জানতে জরিপ পরিচলনা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণদের নিয়ে দলীয় চিন্তা-ভাবনা, বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার মধ্যদিয়ে তরুণ সমাজকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ইতিবাচক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগ এখন দেশের তরুণ সমাজকে জানাতে চায়। ফলে দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনস্কতা তৈরি হবে।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা এবং দলের পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময়ই নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত দল। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের শক্তি কাজে লাগিয়েই দল এগিয়ে যেতে চায়। তবে আমরা তরুণদের আমাদের ও দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনি ইশতেহারেও তারুণ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এ জন্য আমরা তরুণদের সঙ্গে তাদের ভাবনা বিনিময় করছি। পাশাপাশি তরুণদের কাছ থেকেও দেশ গড়ায় নতুন কোনো চিন্তা-ভাবনা থাকলে আমরা তা গ্রহণ করতে চাই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলে আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য এখন থেকেই সক্রিয় হতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য দলে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান আগামী ২১ জুন থেকে শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। গত মাসে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘সদস্য নবায়নের চেয়ে এবার নতুন সদস্য সংগ্রহে গুরুত্ব দেয়া হবে। জেলা-উপজেলা শাখা নিয়মাবলি মেনে সদস্য সংগ্রহের বই করা হবে ও সদস্য সংগ্রহ করা হবে। এরইমধ্যে সেই নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। বহুসংখ্যক নবীন এবার নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে। তাদের মধ্যে ক্লিন চরিত্রের যারা আছে, আমরা তাদের সদস্য করে নেব।

গত মাসে দলীয় এক সভায় আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহের তাগিদ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগে অনেক সাহসী, ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতা ছিলেন, যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সম্প্রতিও অনেকে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু হারিয়ে যাওয়াদের রিপ্লেসমেন্ট কি আমরা করতে পারছি?’ তিনি বলেন, ‘নতুন কর্মী সৃষ্টি করতে হবে, কারণ কর্মীরাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রাণ। শেখ হাসিনা ১/১১’তে কারাগার থেকে বের হতে পারতেন না যদি কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না থাকতো। কর্মীরাই পারে দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে।’

উল্লেখ্য, গত ২০ মে ২০১৭ গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি সংগঠনের সদস্য পদ সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর থেকে সারাদেশে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংগঠনের প্রতিটি শাখায় নতুন ভোটারদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।