নুসরাতের সিঁথিতে সিঁদুর, যা বললেন তসলিমা নাসরিন!

রবিবার, জুন ৩০, ২০১৯

ঢাকা : টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত জাহান সিঁদুর আর মঙ্গলসূত্র পরে সংসদে শপথ নিয়েছিলেন নববিবাহিতা তৃণমূলের এ সাংসদ। তখন থেকে তাকে ঘিরে শুরু হয় বির্তক। প্রশ্ন ওঠে, কেন তিনি জৈন ছেলেকে বিয়ে করেছেন? কেন তিনি হিন্দু রীতি মেনে সিঁদুর আর মঙ্গলসূত্র পরেছেন? নুসরাত গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিন লাখেরও বেশি ভোটে জিতে তৃণমূলের সাংসদ হওয়ার পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

যার ফলে প্রথম দিন সংসদে উপস্থিত থেকে শপথও নিতে পারেননি। পরে তিনি সংসদে যোগ দিয়ে শপথ নেন। সেদিন শাড়ি পরে লোকসভায় যান তিনি। কপালে ছিল সিঁদুর, হাতে ছিলো চূড়া, গলায় ছিলো মঙ্গলসূত্র। হিন্দু বধুর সাজে তিনি কাটাকাটা বাংলায় শপথ নেন সংসদে। এমনকি নিজের নামের শেষে স্বামী নিখিন জৈনের পদবী জৈন শব্দটিও ব্যবহার করে হয়ে যান নুসরাত জৈন। যা নিয়েই মূলত নুসরাত সমালোচনার মুখে পড়েন। মুসলিম ধর্মগুরুরা তার বিরুদ্ধে ফতোয়াও জারি করেন।

এবার নুসরাতের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করার তীব্র প্রতিবাদ জানান লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মন্তব্যকারী মুসলিম ধর্মগুরুদের ধিক্কার জানিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের সোশ্যাল সাইটে এক পোস্ট করেন তিনি।

তসলিমা বলেন, ‘নুসরাত জাহান, একজন মুসলিম, তিনি বিয়ে করেছেন অমুসলিম নিখিল জৈনকে। হিন্দু প্রথা মেনে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন। দু’জনের কেউই তো ধর্মান্তরিত হননি! কিন্তু দেওবন্দের মুসলিম ধর্মগুরুরা এতে বেজায় চটলেন। তারা চান অমুসলিমরা বিয়ের আগে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যাক। চুলোয় যাক। দু’জন ভিনধর্মে বিশ্বাসী মানুষ বিয়ে করলেন। বেশ করেছেন।’

নুসরাত জাহান রুহি জৈন৷ নিখিল জৈনকে বিয়ে করার পর এটাই তার নতুন নাম৷ হিন্দু নারীর মতোই তার সিঁথি রাঙিয়েছেন সিঁদুরে৷ হাতে চূড়া, মেহেন্দি, গলায় মঙ্গলসূত্র, গায়ে আচল জড়িয়ে শাড়ি পরিহিতা, এভাবেই নববধূর বেশে গত ২৫ জুন সংসদে উপস্থিত হয়েছিলেন বসিরহাট কেন্দ্রের নবনির্বাচিত তৃণমূল সাংসদ নুসরাত। নববধূর বেশে সংসদে হাজির হওয়ায় নুসরাতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মৌলবাদের ধ্বজাধারীরা। হিন্দু রীতি মেনে বিয়ে করেছেন নিখিল জৈনকে৷ শনিবারই সেই ঘটনার প্রতিবাদ করে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, দেবশ্রী চৌধুরি এবং হিন্দুত্ববাদী নেত্রী সাধ্বী প্রাচীর মতো একাধিক ব্যক্তিত্বরা। এবার তৃণমূলের সাংসদ নুসরাতের পাশে দাঁড়ালেন লেখিকা তথা সমালোচক তসলিমা নাসরিন।

অন্যদিকে, সতীর্থ নুসরাতকে সমর্থন জানিয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তীও। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় নুসরাতের পোস্ট শেয়ার করে প্রতিবাদ জানান। তারপর এক বক্তব্য রাখতেও গিয়েও নুসরাতের প্রসঙ্গ উত্থাপন হলে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিমি।

তিনি বলেন, ‘প্রথমদিন থেকেই তো আমরা খবরের শিরোনামে। তা সংসদে জিনস পরা নিয়ে হোক কিংবা অন্য পোশাক। এখন নতুন আপত্তি উঠেছে সিঁদুর পরা নিয়ে। তার ব্যক্তিগত জীবনে সে সিঁদুর পরবে কি পরবে না, এটা তো তার একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। যারা সমালোচনা করছেন একটাই বলব, নিজের মা-বোনদের যেরকম সম্মান দেন, সেইটুকু সম্মান অন্য মহিলাদেরও দিন দয়া করে। হাজার হোক, আমরা তো দেশের প্রতিনিধিত্বই করছি। কাজেই সেই সম্মানটুকু তো আমাদেরও প্রাপ্য।’