আবারো চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, রক্ত ঝরল শিশুর

বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯

লালমনিরহাট: বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাটগামী চলন্ত বিরল এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে মনিরা (৮) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
বুধবার রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বেঙ্গল কোম্পানি এলাকায় লাইনের পাশ থেকে কে বা কারা পাথর ছুড়ে মারে। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়।
আহত শিশু মনিরা আদিতমারী উপজেলার নামুড়ি মদনপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে। সে স্থানীয় মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
আহত শিশুর দাদা সোলেমান বলেন, পাটগ্রাম উপজেলার সোহাগপুর থেকে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে হাতীবান্ধার বেঙ্গল কোম্পানি এলাকায় জানালা দিয়ে পাথর ছুড়লে আমার নাতনি গুরুতর আহত হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। এরপর আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

লালমনিরহাট রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদম আলী বলেন, চলন্ত বিরল এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর ছুড়ে শিশু আহতের খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৩০ এপ্রিল কমিউটার ট্রেনে টিকিট চেক করছিলেন টিআই শিকদার বায়েজিদ। ট্রেনটি খুলনার দৌলতপুর স্টেশনের কাছে এলে কে বা কারা পাথর ছুড়তে থাকে। একটি পাথর বায়েজিদের মাথায় লাগলে জ্ঞান হারান তিনি। ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর আন্তঃনগর ট্রেনে আখাউড়া থেকে সিলেট যাচ্ছিলেন রাধানগর ঘোষপাড়ার সুনীল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে সঞ্জিত কুমার চন্দ্র বিশ্বাস। পথে ছোড়া পাথরের আঘাতে দুটি চোখই নষ্ট হয়ে যায় তার। জীবনের সঙ্গে সঞ্জিতের ঘরেও এখন অন্ধকার। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাথরের আঘাতে প্রীতি দাশ নামে এক প্রকৌশলী মারা যান। শেষ হয়ে গেছে ওই পরিবারের সব স্বপ্ন।