‘আন্তর্জাতিক চাপে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে বলে মনে করি না’

বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সেলিমা রহমান। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় বিএনপির বিভিন্ন পদে থেকে সুনাম কুড়িয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়ে এসে দল তাকে আবারও পুরষ্কৃত করল।

সম্প্রতি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম- জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই পদে নিয়োগ পেয়ে তিনি ‘সম্মানিত’ বোধ করছেন।

রাজধানীর বনানীর বাসভবনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেলিমা রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে বলে মনে করি না। দেশের জনগণই আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আপত্তি আছে- এ বিষয়ে বিএনপির এ নেত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সর্ম্পক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের নেতৃত্ব কে থাকবে তা কী অন্য দেশ বলে দিতে পারে? নেতৃত্ব নির্বাচিত করেন দলের নেতাকর্মীরা। তারাই ঠিক করবেন কে তাদের নেতা হবেন।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জোর করতে পারে না। দেশের মানুষ এবং দলের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে ভালবাসেন। তারেক রহমানের নেতৃত্ব আমাদের দরকার, যেমন দরকার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বও।’

তিনি বলেন, চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা ‘খারাপ’ হয়েছিল, এটা ঠিক। কিন্তু একটা দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন তার পররাষ্ট্রনীতি কৌশলগত কারণে অনেক সময় পরিবর্তন করতে হয়। এতে সাময়িক কারও সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট এখন ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হচ্ছে। আজ যে বন্ধু, কাল সে শত্রু হয়ে যাচ্ছে।’

খালেদা জিয়া কারাগারে এবং তারেক রহমান লন্ডনে; শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে দল নেতৃত্ব শূন্যতায় রয়েছে কি-না জানতে চাইলে সেলিমা রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দল চলছে যৌথ নেতৃত্বে। দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার নির্দেশনা আমরা পুরোপুরি মেনে চলছি। দলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বের শূন্যতা অনুভব করছেন না। খালেদা জিয়া কারাগারে, তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় তাদের উপস্থিতির অভাববোধ করছি, কষ্ট পাচ্ছি।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সংসদে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনীতির নানা মেরুকরণ হয়। সময়ের সাথে কৌশলগত কারণে সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আসে। খালেদা জিয়া ছাড়া কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলাম এমন প্রশ্ন সবাই করছেন। ক্ষমতাসীনরা সারা বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, বিএনপি নির্বাচন চায় না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলেও ক্ষমতাসীনরা নানা কথা বলেছেন। এবার নির্বাচনে গিয়ে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি ওই নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তারপরও আমরা সংসদে গিয়েছি। যেহেতু বাইরে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি না, সেহেতু আমরা সংসদকে বেছে নিয়েছি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি কেন জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন এই সদস্য বলেন, ‘নেতাকর্মীদের ওপর সরকারি নির্যাতন চলছে। গুম খুন ও হামলা-মামলা বাড়ছেই। এ অবস্থায় তিনি শপথ নিলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে কষ্ট পেতেন।’

স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য হিসেবে আপনার মুল চ্যালেঞ্জ কি? জানতে চাইলে সেলিমা রহমান বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ভোট হয়ে গেছে রাতের আধারে। দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। এই অবস্থায় দেশের বিরোধী নেতাকর্মী হামলা মামলাসহ সরকারের নানা নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। কেউ কারাগারে; যারা বাইরে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গণতন্ত্রের মাতা ভিত্তিহীন মামলায় কারাগারে। এই অবস্থায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে মূল চ্যালেঞ্জ।’