বিশ্বকাপ ২০১৯

হুমকি দেয়া আফগানকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক: স্বপ্নের সেমিফাইনালে যেতে হলে আফগানদের বিপক্ষে জিততে হবে বাংলাদেশের। এমন সমীকরণ মাথায় নিয়ে ২৬৩ রানের সহজ লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় টাইগাররা। মামুলি এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে আফগানিস্তান। যার ফলে ৬২ রানের সহজ জয় পায় টিম-টাইগাররা।

এদিকে আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন বাংলাদেশকে উর্দু ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘হাম তো ডুবে হ্যায় সানাম, তুম কো লে কার ডুবেঙ্গে’। বাংলাতে এর অর্থ দাঁড়ায়, আমরা তো ডুবেছিই, এখন তোমাকে (বাংলাদেশ) নিয়েই ডুবব হে প্রিয়! কিন্তু আজকের ম্যাচে কোন প্রতিরোধই গড়তে পারেনি আফগান শিবির।

বাংলাদেশের দেয়া ছোট এই স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরুটা ধীর গতিতে শুরু করে আফগানিস্তানের দুই ওপেনার গুলবাদিন নাইব ও রহমত শাহ। টাইগার বোলদের দেখে শুনে আফগানদের রানের চাকা সচল রাখে এই দুই ওপেনার কিন্তু দলীয় ৪৯ রানে আফগান শিবিরে আঘাত হানে বিশ্বসেরা আলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পাওয়ার প্লেতে যখন ফাস্ট বোলাররা ব্যার্থ তখন ইনিংসের ১১তম ওভারে বল হাতে আসেন সাকিব। এসেই ওপেনার রহমত শাহকে সাজঘরে পাঠান তিনি। সাকিবের বল পুল করে উড়াতে গিয়ে আকাশে তোলেন রহমত শাহ। মিড অনে সহজ ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ২৪ রান করে তিনি। আর হাসমতুল্লাহ শহিদি ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন।

এর কিছু পরেই আফগান শিবিরে আবারও জোড়া আঘাত হানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এবার ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার গুলবাদিন নাইবকে আর তৃতীয় বলে মোহাম্মদ মোহাম্মদ নবিকে আউট করেন তিনি। ৪ উইকেট হারিয়ে যখন আফগানিস্তান চাপে পরে তখন এক ওভার পরেই নিজের ষষ্ঠ ওভারে ৩৮ বলে ২০ রান করা আসগর আফগানকে প্যাভিলিয়নের পথে হাটান সাকিব। শেষের দিকে সামিউল্লাহ সেনওয়ারি ছাড়া কেউই উইকেটে ধারাতে পারেনি

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান করে বাংলাদেশ। তাই রশিদ খানদের জিততে হলে পাড়ি দিতে হবে অল্প রান।

বিশ্বকাপের আগের সব ম্যাচে তামিম ইকবালের সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করতে নেমেছিলেন সৌম্য সরকার। তবে আজ তামিমের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছেন লিটন দাস। আগের দুই ম্যাচে লিটন ব্যাট করেছিলেন পাঁচ নম্বরে। কিন্তু ওপেনিংয়ে নামার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। অফ স্পিনার মুজিব উর রহমানের ফুল লেংথ বলে শর্ট খেলেছিলেন লিটন। শর্ট কাভারে নিচু ক্যাচ নেন হাশমতউল্লাহ শাহিদি।

টিভি আম্পায়ার বেশ কয়েকবার রিপ্লে দেখার পর জানান সিদ্ধান্ত। আম্পায়ারের বির্তকিত এই সিদ্ধান্তে দলীয় ২৩ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় লিটনকে। আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ১৬ রান করেন লিটন। এরপর টাইগার শিবিরে আঘাত হানে মোহাম্মদ নবি। তিনি ওপেনার তামিম ইকবালকে সারাসরি বোল্ড করে দেন। তামিম আউট হওয়ার আগে ৫৩ বলে ৩৬ রান করেন। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ চাপে পরেন তখন বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে বাজে আম্পায়ারিংয়ে দলীয় ১৪৩ রানে মুজিবউর রহমানের বল প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় সাকিব। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৫১ রান করেন তিনি।

ওপেনিং থেকে আজ পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সৌম্য। আজও ব্যার্থ তিনি। ১০ বলে মাত্র ৩ রান করে আউট হন প্যাভিলিয়নের পথে হাটেন এই হার্ড হির্টার ওপেনার। এরপর মাহমুদউল্লাহকে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন মুশফিকুর রহিম। তবে গত ম্যাচের মত আজ ইনিংস বড় করতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ২০৭ রানে ব্যাক্তিগত ২৭ রানে সাজঘরে ফিরে যায় রিয়াদ।

শেষের দিকে মুশফিকুর রহিমের ৮৭ বলে ৮৩ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৩৫ রানের ইনিংস ভর করে এই স্কোর পায় বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০০/১০ (৪৭ ওভার)
বাংলাদেশ: ২৬২/ ৭ (৫০ ওভার)
টার্গেট: ২৬৩

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাইফউদ্দীন এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

আফগানিস্তান একাদশ: গুলবাদিন নাইব, রহমত শাহ, হাসমতুল্লাহ শহিদি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, রশিদ খান, ইকরাম আলিখিল, মুজিব-উর রহমান, দৌলত জাদরান এবং সামিউল্লাহ সেনওয়ারি।