অস্ট্রেলিয়া-বধে আশাবাদী মাশরাফি

বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক : ট্রেন্ট ব্রিজে দুটি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। যদিও এখানে কোনও সুখস্মৃতি নেই টাইগারদের। সেই ইতিহাস বদলানোর মিশনে অস্ট্রেলিয়া পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে গাজী টিভি, মাছরাঙা টেলিভিশন ও স্টার স্পোর্টস ওয়ান চ্যানেলে।

তবে অস্ট্রেলিয়াকে শক্ত প্রতিপক্ষ মানলেও এই ম্যাচ জয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বুধবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই ফেভারিট। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। এর বিকল্প নেই। অস্ট্রেলিয়া তাদের ৭০ ভাগ খেললে, আমাদের শতভাগ দিয়ে খেলতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে।

ম্যাচ জয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, আমার চাওয়া এই ম্যাচে যেন আমরা ভালো খেলে জিততে পারি এবং দুই পয়েন্ট পাই। এই ম্যাচ জিততে পারলে টুর্নামেন্টে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আলাদা আত্মবিশ্বাস জোগবে আমাদের।

তবে গত ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচে আরো ভালো খেলতে হবে বলে মনে করেন মাশরাফি, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সিনারি একেবারেই উল্টো হবে। তাদের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আছে। ব্যাটিংও চমৎকার। তারা খুবই পেশাদার দল। তাই সাফল্য পেতে হলে আমাদের তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে।’

ট্রেন্ট ব্রিজে সবশেষ ২০১০ সালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। আগেরটি আরও আগে, ২০০৫ সালে। অতীত ভুলে রবিন হুডের শহরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন ইতহাস গড়ার মিশনে নামতে প্রস্তুত মাশরাফিরা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয় কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসে। ২০০৫ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে জিতেছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ২১ ম্যাচের লড়াইয়ে ওই একবারই জিততে পেরেছে টাইগাররা। দুটি ম্যাচে অবশ্য ফল হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা ২১ ওয়ানডের মধ্যে তিনটি ম্যাচ আছে বিশ্বকাপে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছিল। ২০০৭ সালে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১০ উইকেটের। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের ম্যাচটি অবশ্য বৃষ্টির কারণে মাঠেই গড়ায়নি। বিশ্ব আসরে আজ চতুর্থবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে এই ম্যাচ জেতাটা খুব জরুরি মাশরাফিদের।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি যে সহজ হবে না, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণের চেয়েও ধারালো অজিদের বোলিং। প্যাট কামিন্সের বৈচিত্র্যময় বোলিং ভোগাতে পারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। সেই সঙ্গে মিচেল স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন তো আছেনই।

এদিকে বাংলাদেশ দলকে নিয়েও চিন্তিত অস্ট্রেলিয়া। দলটির উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি এ সম্পর্কে বলেন, সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। সাকিব ও অন্য টপ অর্ডারদের দিকে আমাদের নজর রাখতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের বোলিং আক্রমণ নিয়েও ভাবতে হচ্ছে।

সাকিবের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে তার বোলিং নিয়েও সমানভাবে চিন্তিত অস্ট্রেলিয়া। সাকিবের স্পিন মোকাবিলা করতে এরই মধ্যে ইংল্যান্ড সফররত অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন আগারকে নেটে বোলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট।

সাকিব আল হাসানকে ঠেকাতে আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দেখা যাক ট্রেন্ট ব্রিজে আজ কী ঘটে!