যুবলীগ নেতার মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্রে করে ডাক্তার কে মারপিট, ভাংচুর

বুধবার, জুন ১৯, ২০১৯

জিএম মিজান, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবলীগ নেতার মায়ের মৃত্যু কে কেন্দ্র করে ডাক্তার কে মারপিট, জরুরী বিভাগের আসবাবপত্র, দরজা জানালা, ভাংচুর, থানায় মামলা।

জানা যায়, গত সোমবার বিকাল ৩টার দিকে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার লালদহ গ্রামের বিশিষ্ট সার, কীটনাশক ব্যবসায়ী মোঃ দুদু মিয়ার স্ত্রী ও পৌর যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ ইসলাম এর মা ডলি বেগম (৫২) বাড়িতে অসুস্থবোধ করলে তার পরিবার তাৎক্ষনিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেয়।

সোমবার রাত ১১ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছিলে তার ছেলে-মেয়ে সহ পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে যায়। এসময় তারা জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, জানালা, দরজা, ভাংচুর করে।

পরে ২য় তলায় ইনডোরে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) ডাঃ দোলোয়ার হোসেন নয়ন এর উপর হামলা চালায়। এসময় তাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর. এম. ও) বলেন, রোগী ভর্তি হয়েছিল মাথা ব্যাথা ও বমন এর কথা বলে। রোগীটি ঘুমের মধ্যে সম্ভাবত হার্ট এ্যাটাক করে মারা যায়।

রোগীর লোকজন ভুলবুঝে অযথা আমার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আহত করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমি ডানকানে কিছু শুনতে পারছিনা।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ডাক্তারকে মারপিট ও হাসপাতালে হামলা সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ায় ওই মৃত্যুর স্বামী দুদু মিয়া, তার ছেলে ইলিয়াছ ইসলাম ও রাব্বী কে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত ছেলে পৌর যুবলীগের সাংগঠন সম্পাদক ইলিয়াছ ইসলাম বলেন, আমার মাকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসার অভাবে আমার মা মৃত্যু বরণ করেছে। হাসপাতালে হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, উত্তেজিত জনগণ এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রাত সাড়ে ১০ টায় হাসপাতালে গিয়ে আউট ডোরে কোন ডাক্তার কে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে ডেকে ডাক্তারদেরকে নিয়ে আসতে হয়। তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালে ডাক্তারা সঠিক ভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান না করার কারণে মাঝে মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সলিমুল্লাহ আকন্দ বলেন, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে সরকারি সম্পদ নষ্ট করা ও ডাক্তার কে মারপিট করার ঘটনায় আমি সঠিক বিচারের জন্য থানায় মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেছি।