‘বর্তমান সরকার ঋণখেলাপি বান্ধব সরকার’

বুধবার, জুন ১৯, ২০১৯

ঢাকা: বাজেট থেকে সরকারের চরিত্র কিছুটা বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ‘দরিদ্রতম দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম। বিদেশি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ বাজেটে ৮৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশ ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋনের ব্যাপারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। বর্তমান সরকার ঋণখেলাপি বান্ধব সরকার।’

বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।

রুমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বলে নীতির ঘোষণা দিলেও দেশে এখন দুর্নীতি মহামারি রুপ ধারণ করেছে। সর্বত্র দুর্নীতি, এটা এখন সরকার স্বীকৃত। এ সরকারের আমলে দুর্নীতিকে আইনে রূপ দিয়ে ফেলেছে।’

আর্থিক অবস্থাপনা নিয়ে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। আদায়ের কোনো লক্ষণ নেই। আবার ঋণ খেলাপিদের ছাড় দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।’

রুমিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, মাসে ২০ হাজার টাকা আয় থাকলে তাকেও কর দিতে হবে। অথচ বিদেশি কর্মীরা ৮৫ হাজার কোটি টাকায় আয় করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের এখানে কাজ করার বৈধতা আছে কি না, কেন বিদেশি কর্মী আনা হচ্ছে। এরা কর দেয় না। এরা যদি ২০ শতাংশও কর দিত তাহলে ১৭ হাজার কোটি টাকা আয় হতো।’

বিএনপির এই এমপি বলেন, ‘১৪ হাজার কোটি টাকা রূপপুরে বরাদ্দ হলেও শিক্ষায় মাত্র জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। শিক্ষায় জিডিপির ৬ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ২০ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল।’ শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন।

রুমিন বলেন, ‘২০২০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুতে কুইক রেন্টালের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে লুটপাটের জন্য। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎখাতে লোকসান দিতে হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্র এখন শোষকের পক্ষে, শোষিতের বিপক্ষে।’

কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে রুমিন বলেন, ‘সরকার এদের সুযোগ করে দিচ্ছে অসৎভাবে আয় করার আর বিদেশে পাচারের। একই ভাবে চিনি, তেল গুড়া দুধের ওপর শুল্ক আরোপ করে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে।’

রুমিন আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই শেয়ার বাজারে ধ্বস নেমে আসা। সম্প্রতি শেয়ার বাজারে ধ্বংস নেমে গেলেও এর কোনো প্রতিকার নেই।’