সংসদে যোগ দেয়ার ব্যাখ্যা দিলেন তারেক রহমান

রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯

ঢাকা : দেড় মাস পর বৈঠকে বসলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্কাইপেতে রেখে এ বৈঠকে বসেন তারা।

সেখানে একক সিদ্ধান্তে একাদশ জাতীয় সংসদে যোগ দেয়ার ব্যাখ্যা দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, কৌলশগত কারণে সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার বিকাল ৫টায় বৈঠক শুরু হয়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বৈঠক চলার পর শনিবার পর্যন্ত তা মুলতবি করা হয়। বৈঠকে দল পুনর্গঠন ও জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

সিদ্ধান্ত হয়, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ফের কর্মসূচি দেবে বিএনপি। তবে কোন ধরনের কর্মসূচি তা চূড়ান্ত করা হয়নি। বৈঠকের পর কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা ও তার জামিন বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন নেতারা।

বৈঠকে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিজয়ীরা ২৯ এপ্রিল তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে শপথ নেন।

কিন্তু দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল শপথ না নেয়ার। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির কয়েক সদস্য। যে কারণে ৪ মে বৈঠক ডাকলেও স্থায়ী কমিটির কয়েক নেতা তা বর্জন করার ঘোষণা দিলে কয়েক ঘণ্টার মাথায় তা বাতিল করা হয়। এরপর আর কোনো স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়নি।

এর আগে সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছিল ২৮ এপ্রিল রাতে। ওই বৈঠকেই তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির নেতাদের কাছ থেকে শপথ নেয়ার বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত চেয়ে নিয়েছিলেন। তবে নির্বাচিত চার এমপি শপথ নিলেও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্কাইপিতে থেকে শপথের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ন্যূনতম যে সুযোগ-সুবিধাটুকু আছে (সংসদে কথা বলা) সেই সুযোগটিকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিএনপি জেলা কমিটি দ্রুত ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করার ওপর জোর দেন নেতারা। বৈঠকে ছাত্রদলের চলমান সংকটের বিষয়টি তোলেন স্থায়ী কমিটির এক সদস্য। এ সময় আরেক সদস্য বলেন, বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ

সম্পাদকরা কাজ করছেন। আশা করি তারাই সমাধান করবেন। তারা যদি না পারেন তাহলে আমরা বসব।