নানার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার প্রমাণ পায়নি পুলিশ

বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯

বিনোদন ডেস্ক : গত বছর বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে ভারতে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছিলেন সাবেক মিস ইন্ডিয়া, বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত।

পুরো ভারতে বয়ে যায় মি টু ঝড়। সে নিয়ে মামলাও হয়েছে। তবে সম্প্রতি মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, নানার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পায়নি তারা।

‘আশিক বানায়া আপনে’ খ্যাত বঙ্গকন্যা তনুশ্রীর অভিযোগ, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি আইটেম গানের শুটিং চলাকালে নানা পাটেকার তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন।

তনুশ্রীর অভিযোগ, ‘নাতনি উতারো’ আইটেম গানের শুটিং চলাকালে হেনস্তা করেন নানা। সেট থেকে তিনি চলে যান। পরে ওই গানে তনুশ্রীর পরিবর্তে যোগ দেন রাখি সায়ন্ত। তাঁর গাড়ির ওপর হামলাও চালানো হয়। তবে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা নানা পাটেকার বরাবরই সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলেছেন।

শুধু নানা পাটেকারই নয়, তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধেও। এ অভিনেত্রী বলেছিলেন, ২০০৫ সালে ‘চকলেট : ডিপ ডার্ক সিক্রেটস’ ছবির শুটিং চলাকালে সহ-অভিনেতা ইরফান খানের সামনেই বিবেক তাঁকে পোশাক খুলে নাচতে বলেছিলেন।

তনুশ্রীর অভিযোগের পর বলিউডে তোলপাড় শুরু হয়। বেশিরভাগ তারকা অভিনেতা তনুশ্রীর পাশে দাঁড়ান। এরপর একে একে অনেকেই নিজেদের জীবনে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তার কথা ফাঁস করেন। আলোচনায় আসে অনেক রথী-মহারথীর নাম।

বার্তা সংস্থা এএনআই প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তাই তদন্ত আর এগোবে না।

সংবাদমাধ্যম মিড-ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মামলায় ১২ থেকে ১৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি নেওয়া হয়। কিন্তু কেউই তনুশ্রীর অভিযোগকে সমর্থন দেননি এবং নানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো প্রমাণই পায়নি পুলিশ। তনুশ্রীর অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য, প্রযোজক সামি সিদ্দিক ও পরিচালক রাকেশ সারেংও।

প্রতিবেদনটি আরো বলছে, এতে নাখোশ হয়েছেন তনুশ্রী দত্ত। তাঁর আইনজীবীর অভিযোগ, পুলিশ শুধু নানা পাটেকারের পক্ষের লোকজনের বিবৃতি গ্রহণ করেছে।

তনুশ্রীকে শেষবার বড়পর্দায় দেখা গিয়েছিল ২০১০ সালে, ‘অ্যাপার্টমেন্ট’ ছবিতে। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন। সূত্র : বলিউড বাবল