মে মাসে মারুতি সুজুকির গাড়ি বিক্রি সাত বছরের সর্বনিম্নে

সোমবার, জুন ৩, ২০১৯

ঢাকা: চলতি বছরের মে মাসে গাড়ি বিক্রিতে তীব্র পতনের কথা জানিয়েছে ভারতের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি মারুতি সুজুকি। গত মাসে ২২ শতাংশ বিক্রি কমেছে কোম্পানিটির, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মাস মারুতি সুজুকির গাড়ি বিক্রিতে পতন দেখা গেল। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

গত মাসে ভারতের সার্বিক গাড়ি বিক্রিতেই পতন দেখা গেছে। মে মাসে দেশটির শীর্ষ চারটি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি মারুতি, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, টাটা মোটরস এবং হোন্ডা কারস ইন্ডিয়ার মোট বিক্রিকৃত গাড়ির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ২৯৪টি। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। গত বছরের মে মাসে মোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮৪টি গাড়ি বিক্রি করে কোম্পানিগুলো। বিক্রি হ্রাস ভারতের গাড়ি খাতে মন্দা নির্দেশ করছে।

এক বিবৃতিতে মারুতি জানিয়েছে, নতুন ওয়াগনআরের বিক্রি কোম্পানির কমপ্যাক্ট সেগমেন্টের আওতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। তুলনামূলক ক্ষুদ্র সাব-সেগমেন্টের আওতাধীন পুরনো অপ্রচলিত মডেলের বিক্রিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই পতন দেখা যায়।

গত মাসে কোম্পানিটির ক্ষুদ্র সেগমেন্টের বিক্রি ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৬ হাজার ৩৯৪ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। একই সময় কমপ্যাক্ট সেগমেন্টের বিক্রি ৯ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭০ হাজার ১৩৫ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। মারুতির ইউটিলিটি ভেহিকল বিক্রি ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১৯ হাজার ১৫২ ইউনিটে দাঁড়ালেও ভ্যান বিক্রি ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ৭৪৫ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। সিয়াজের বিক্রি ১০ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৫৯২ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সুপার ক্যারি মডেলের বিক্রি বেড়েছে ৪ হাজার ৫৫১ শতাংশ। গত মাসে এ মডেলের ২ হাজার ২৩২ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে মারুতি। কোম্পানিটির স্থানীয় যাত্রীবাহী গাড়ির মোট বিক্রি ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের বাজারে প্রতি সেকেন্ডে একটি গাড়ি বিক্রি করে থাকে মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে পতনের দেখা পেলেও এপ্রিলে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে উৎপাদন ও বিক্রি প্রবৃদ্ধি ৪-৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।

মারুতি সুজুকির চেয়ারম্যান আর সি ভার্গভ বলেন, এ মুহূর্তে কিছু প্রতিকূল ফ্যাক্টর রয়েছে, যেগুলো হয়তো আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। মূলত সামগ্রিক গাড়ি শিল্পেই নিম্নগতি বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি পেট্রলের দাম ঘিরে অনিশ্চয়তা (ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে) এবং বিএস ফাইভ মডেলের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে গাড়ির দাম বেড়ে যেতে পারে। তবে কিছু অনুকূল লক্ষণও রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভার্গভ।

গত মাসে মারুতির গাড়ি রফতানি ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৮৯ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত বছরের মে মাসে ৯ হাজার ৩১২ ইউনিট রফতানি হয় বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

এদিকে জাপানের গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি হোন্ডার ভারতীয় অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হোন্ডা কারস ইন্ডিয়া গত মাসে ১১ হাজার ৪৪২ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে। যা গত বছরের একই সময়ে ১৫ হাজার ৮৬৪ ইউনিট বিক্রির চেয়ে ২৮ শতাংশ কম। হোন্ডা কারস ইন্ডিয়ার জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) রাজেশ গোয়েল বলেন, টানা দুই মাস প্রবৃদ্ধির ব্যাপক পতনে গাড়ি শিল্পের বাজারে কঠিন পরিস্থিতি বহাল থাকবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। গত দুই দশকের মধ্যে এমন পরিস্থিতি নজিরবিহীন। নির্বাচনের পর, আমরা ঊর্ধ্বগতি আশা করলেও এখন পর্যন্ত এর দেখা পাওয়া যায়নি। গোয়েল আরো বলেন, তারল্যের মতো ফ্যাক্টরগুলো গাড়ি খাতের পুঁজিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সে সঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য ভোক্তা আস্থা পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

জাপানের আরেকটি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটা মোটরের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান টয়োটা কিরলোসকার মোটর গত মাসে ১২ হাজার ১৩৮ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। একইভাবে ট্রাক্টর বিক্রিতে ১৭ শতাংশ পতনের কথা জানিয়েছে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, যা মূলত ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতে অব্যাহত দুর্দশার আভাস দিচ্ছে।