গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ না করেই ঈদের ছুটি ঘোষণা

রবিবার, মে ২৬, ২০১৯

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে : সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদভাতা পরিশোধ না করেই ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো.দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত এ ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে, গত ৬ এপ্রিল থেকে বৈধ উপচার্য নিয়োগের দাবীতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনের ফলে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল একাডেমিক ও প্রশাসসনিক কার্যক্রম। এ কারণে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর নির্দেশে চলতি মাসের শুরুতেই স্থগিত করা হয় সকল কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সকল শিক্ষক-কর্মকর্তার বেতন বন্ধ করে দেওয়াকে হঠকারী, অযৌক্তিক, অনাকাঙ্খিত এবং নিপীড়নমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মকর্তাগণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত আছেন। তাদের সাথে কথা বলতে গেলে চাকরি হারানোর ভয়ে অধিকাংশই কথা বলতে রাজি হননি। আর যারা কথা বলেছেন তারা সকলেই নাম প্রকা না কারার শর্তে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, অধ্যাপক ডাঃ লায়লা পারভীন বানু গত ২০১৭ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অদ্যাবধি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তার নিয়োগ অনুমোদিত না হওয়ায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা দু’মাস ধরে বৈধ উপাচার্যের দাবিতে আন্দোলন করছে। কিন্তু এই আন্দোলনের সাথে আমাদের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তাহলে কেন আমাদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে?

ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বৈধ উপাচার্য নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আন্দোলন করল শিক্ষার্থীরা আর বেতন বন্ধ হলো শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এটা আসলে অমানবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি, রেজিস্ট্রার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দকে ঘিরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত রয়েছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে প্রশাসনিক ভবনের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ভিসি এক প্রকার প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়েই ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীকে হাত করে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন আটকে রেখেছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দেলনের কারণে ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বেতন বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। নোটিশে বেতন স্থগিতের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সেমিস্টার ফি প্রদান না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবনতির কথা উল্লেখ করা হয় সর্বশেষ নোটিশ দিয়ে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টি বোর্ড শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন নিয়ে এখনও কোন সুরহায় আসতে পারেনি।