বিজেপির দ্বিতীয় মেয়াদ : ১ দশমিক ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা

শনিবার, মে ২৫, ২০১৯

ঢাকা: ভারতের অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা হবে, যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ বিনিয়োগ করেন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে যাওয়া নরেন্দ্র মোদি। ম্যানুফ্যাকচারিং খাত চাঙ্গা করা এবং রফতানি দ্বিগুণ করতে সড়ক, রেলপথ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃষকদের হাতে নগদ অর্থসহায়তা হিসেবে ১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ওই প্রতিশ্রুতিসহ মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের কর অব্যাহতির প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখে বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ফলাফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় দলটি। খবর ব্লুমবার্গ।

অর্থনীতিতে প্রণোদনার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়া বন্ধ হওয়ায় ভোক্তা ব্যয় অনেক সংকুচিত হয়েছে। বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা, যা ২০১৭ সালের মাঝামাঝির পর থেকে সবচেয়ে শ্লথগতির প্রবৃদ্ধি।

জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হবে মোদি সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ। সরকার এরই মধ্যে ২০২০ সালের মার্চ নাগাদ বাজেট ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। আয় সংকুচিত হওয়ায় সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহ করতে চাচ্ছে। আর্থিক বাজেটে ঘাটতি আরো বাড়লে তা দেশটির ঋণমান হুমকিতে ফেলবে।

বৃহস্পতিবার ফিচ রেটিং লিমিটেড জানায়, ভারতের দুর্বল অর্থ খাত শক্তিশালী করা হবে নতুন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপির নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আর্থিক সমন্বয় কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর কৃষি খাতে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিতে খরচের খাতা বেড়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ক্যাপিটাল ইকোনমিকস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ইন্ডিয়া ইকোনমিস্ট শিলন শাহ বলেন, ‘আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সময় অল্প হওয়ায় তা অর্জন করা কঠিনই ঠেকবে। কিন্তু তা আংশিকভাবে পূরণ হলেও তা প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করবে।

বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২৪ সাল নাগাদ অবকাঠামো খাতে ১০০ ট্রিলিয়ন রুপি (১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি করা হয়েছে। সড়ক ও রেলপথে ২০১৯ সালের মার্চ অব্যবহিত এক বছরে ১ দশমিক ২০ ট্রিলিয়ন রুপি বিনিয়োগের বিষয়টি মাথায় নিলে তা সরকারের বেশ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা।

ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারতের অর্থনীতিতে এখনো শ্লথগতি চলছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ অর্থনৈতিক আরোগ্য লাভের আগে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। নির্বাচনে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দ্রুত আরোগ্য লাভের আশা করা যেতেই পারে বলে মনে করেন ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদরা। এর পেছনের কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসনের ধারাবাহিকতা বৈদেশিক বিনিয়োগপ্রবাহ বৃদ্ধি করে।

প্রথম মেয়াদে মোদির অর্থনৈতিক রেকর্ড কিছুটা গোলমেলে ছিল। মোদির প্রথম মেয়াদে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিছুটা কমেছে, শতবর্ষ পুরনো দেউলিয়া আইন পরিবর্তন হয়েছে এবং দেশব্যাপী বিক্রয় কর চালু করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু নতুন কর ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা এবং ২০১৬ সালে দুর্নীতি রোধে নোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত ব্যবসায় বাধা প্রধান করেছে, যার প্রভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মোদির বিজয়ে বাজারে তাত্ক্ষণিক চাঙ্গাভাবে এটা স্পষ্ট, নীতির ধারাবাহিকতা ও আরো অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রত্যাশা কাজ করছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং অস্থিতিশীল তেলের দামের ওপর দাঁড়িয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে মোদি সরকারকে। ভারতের সবচেয়ে বড় আমদানি পণ্য হচ্ছে তেল, যা দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ও ঘাটতি সৃষ্টির প্রধান চালক হিসেবে কাজ করে।

প্রথম মেয়াদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সবচেয়ে বড় একটি ব্যর্থতা ছিল তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থতা। ইশতেহারে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সুদমুক্ত ঋণ এবং নতুন ব্যবসা শুরুর নীতিমালা সহজতর করার ঘোষণা দিয়েছে বিজেপি।