নারী নেতৃত্ব হারাম, পাশে বসলেই আরাম: জামায়াতকে মতিয়া

বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯

ঢাকা : জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ‘এরা (জামায়াত) ধর্মের অপব্যবহার করে, ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করে। আর ধর্মের নাম করে মানুষের সমস্ত অর্ধম সাধন করে। নারী নেতৃত্ব হারাম, পাশে বসলে আরাম- এটিই হচ্ছে জামায়াতের একটি চেহারা। অপর চেহারাটি হচ্ছে আগুন সন্ত্রাস।’

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি জামায়াত ও বিএনপি সমান মোনাফেক বলেও মন্তব্য করেন।

জামায়াত প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, ‘জামায়াতের আরেকটি চেহারা আমরা ২০১৪ তে দেখেছি, ২০১৫ তে দেখেছি। সেটি হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাস। শবে বরাতের রাতে বাসে করে বাবা মা মেয়ে ফিরছে, তাদেরকে পেট্রোল বোমা মেরে এর নাম কি ইসলাম? এর নাম বিএনপির ধর্ম নিয়ে রাজনীতি। জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত নয় নস্যাৎ করতে চায়। যেমনটি ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার সময় করেছিলো।’

রাজনীতি অঙ্গনের এই অগ্নিকন্যা বলেন, ‘২০০১ এর সরকার গঠন করার পর জামায়াত বেছে বেছে কৃষির জায়গাটা নিলো। যে কৃষিতে আমরা প্রথম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলাম, সেই কৃষি বেছে নিলো। সমাজকল্যাণ বেছে নিলো। কতগুলো জায়গা স্ট্যাটেজিক পয়েন্ট জামায়াত বেছে নিলো। শিল্ল মন্ত্রণালয় বেছে নিলো। এর পর তাদের টার্গেট ছিল- শ্রমিককে নষ্ট করো, সমাজ কল্যাণের নামে বিভিন্ন জায়গায় শাখা-প্রশাখা তৈরি করো, কৃষি সেক্টরে গিয়ে কৃষিকে পঙ্গু করে দাও। সেই দিন তারা বেগম জিয়ার সাথে গাঁটছড়া বেঁধে এই সুবিধা আদায় করেছিল।’

সাবেক কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সমস্ত মোনাফেকদের কথা হচ্ছে- নারী নেতৃত্ব হারাম। আর যখন কোনও নারী সিপনের সেই জর্জেট বা চুল খোলা, গায়ে সুন্দর কুশন পরে তাদের পাশে বসে তখন এই মোনাফেকদের শুধু আরাম আর আরাম। আমাদের সমাজের বিভিন্ন পর্যায়কে জামায়াত-বিএনপি নষ্ট করে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তাদের (বিএনপি-জামায়াত) মতই হই, তাহলে শেখ হাসিনা আমাদের দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এই কথাটা মাথায় রেখেই আমাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। তাহলেই আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে সত্যিকারে সাহায্য করতে পারবো।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘আজকের দিনে শেখ হাসিনার সাফল্যের পাশাপাশি এই যে সমাজের যত অন্ধত্ব এবং যেটাকে পুঁজি করে এরা আগালো এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে জনগণকে বিশেষ করে নারীসমাজকে সচেতন করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি ড. সুলতানা সফির সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।