আমরা আদর্শিক রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছি: হানিফ

বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯

ঢাকা: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আমরা এখন যারা রাজনীতি করি, আমরা আদর্শিক রাজনীতি থেকে কিন্তু অনেক দূরে সরে গেছি। সবাই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে শ্লোগান দেয়, কিন্তু আদর্শের পথটা অনেকেই চেনে না।’

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, ‘আমাদের সকল সংগঠন, শুধু মহিলা আওয়ামী লীগ না, আমাদের যুবলীগ বলেন, ছাত্রলীগ বলেন, আওয়ামী লীগ বলেন- যারা দল করি আমরা দলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিচ্ছি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে। ‘শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে’ বলে। স্লোগান দিয়েই যাচ্ছি। কিন্তু যে আর্দশটা ধারণ করে আমাদের রাজনীতির চলার পথ, সেটা কিন্তু আমার অনেকই জানি না। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাস বা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও আমরা অনেকেই জানি না। অথচ এই বাংলাদেশ মানেই হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যাঁর নামের সঙ্গে বাংলাদেশ নামটা এক, অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য। এই বাংলাদেশ সৃষ্টির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে চিন্তাও করা যায় না। কেনও এই বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন শব্দ এই ইতিহাস জানা সবার প্রয়োজন। কিন্তু আমার ধারণা আমাদের বেশিরভাগই এটা জানে না। আজকে বাংলাদেশের ইতিহাস জানার প্রয়োজন আছে। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতা দখল করেছিলো সেই ’৭১ এর পরাজিত শক্তির দোসরদের চিনে রাখার প্রয়োজন। যারা কিনা ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারই শুধু বন্ধ করেনি এই দেশে পাকিস্তানের ভাবধারাও প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সবচেয়ে যেই ক্ষতিটা করেছিলো, সেটা হলো সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দিয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আজকে দেখুন বাংলাদেশর দুটি ধারা। একটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্বে। আরেকটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে এই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তির হাত ধরে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী ধারা সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার নেতৃত্বে। এটার সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তাঁর নেতৃত্ব শুরু হয়েছিল, সেটা উত্তারাধিকার সূত্রে বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে আসছেন।’

হানিফ আরও বলেন, ‘জাতিকে বিভাজিত করার কারণে দেশ বারবার হোঁচট খেয়েছে, বারবার উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে হলে এই বিভক্তি দূর করতে হবে। বিভক্ত জাতি নিয়ে কোনও দেশ বেশি দূর এগোতে পারে না।’

এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের জাতির মানুষের মধ্যে নীতি, নৈতিকতা ও সততার সংকট। প্রত্যেকটা সেক্টরে আজকে মানুষের যে অসততা দেখি, অনৈতিকতা দেখি, এরকম অসততা নিয়ে একটা দেশ খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। আজকে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ। এই অসুস্থ মানুষের মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ কিডনি রোগী। বাকি ২৫ ভাগ মানুষ ক্যান্সারের রোগী। এর একটাই কারণ- তা হচ্ছে আমাদের নীতিহীনতা, অসততা, অনৈতিকতার মানসিকতা। আমরা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছি। মাছে ফরমালিন দিচ্ছি। এসব করে একে অপরকে ঠকাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকে দেখুন নৈতিকতা কোন পর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন সময় দুর্নীতির কথা আসে। বালিশ কিনতে যেয়ে দুর্নীতির কথা আসে। অবাক হতে হয়, যখন দেখি একটি সরকারি দফতরের ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির কথা আসে। অনৈতিকতার কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে। এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়।’

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি ড. সুলতানা সফির সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন- দলটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।