সম্মানিত পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণের কোন বিকল্প নেই

সোমবার, মে ২০, ২০১৯

ঢাকা : শতভাগ পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনের মধ্যেই রয়েছে, শতভাগ পবিত্র রহমত মুবারক। রহমত ও নাযাত পেতে জীবনের সকল ক্ষেত্রে বিজাতীয় অনুসরণ অনুকরণ পরিত্যাগ করে সম্মানিত পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণের কোন বিকল্প নেই।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে সুন্নতি তৈজসপত্র, পোশাক পরিচ্ছদসহ বিভিন্ন সুন্নতি সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, একজন বান্দা-বান্দীর কামিয়াবী নির্ভর করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরনের উপর। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার পবিত্র সুন্নত মুবারককে মুহব্বত করলো সে আমাকে মুহব্বত করলো। আর আমাকে যে মুহব্বত করলো সে আমার সাথে পবিত্র জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! তাই যে ব্যক্তি বিজাতীয় অনুসরণ অনুকরণ পরিত্যাগ করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেখানো আদর্শ তথা মহাসম্মানিত সুন্নত অনুযায়ী স্বীয় জীবনকে পরিচালিত করবে এবং মুহব্বত করবে, সে জান্নাত লাভ করবে।

বক্তারা বলেন, সবাই যাতে সম্মানিত সুন্নতের উপর আমল করতে উৎসাহিত হয় এবং দুস্প্রাপ্য সুন্নতী সামগ্রী যাতে সহজে পেতে পারে অর্থাৎ সম্মানিত সুন্নত প্রচারের লক্ষ্যে সেজন্য রাজারবাগ দরবার শরীফে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্র। সেখানে গরু-খাসির দস্তরখানা, কাঠের প্লেট, বাটি, গামলা, চকি, চামড়ার নালাইন,মোজা, চামড়ার বালিশসহ সুন্নতি খাবার তালবীনাহ, নাবীয,ছারীদ, কিসসা ইত্যাদি দুস্প্রাপ্য সুন্নতি সামগ্রী পাওয়া যায়।সরাসরি সংগ্রহ করা ছাড়াও ভ্রাম্যমান সুন্নত সুন্নত প্রচার কেন্দ্রের গাড়ী এবং অনলাইনে এসব সুন্নতি সামগ্রী অর্ডার করা যায়।

সুন্নতের উপকারিতা এবং অপরিহার্যতা নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, সুন্নত পালনের মধ্যেই রয়েছে মুক্তি। সুস্থতাসহ সকল কামিয়াবি। বক্তারা, বিজাতীয় অনুসরণ অনুকরণ পরিত্যাগ করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে সম্মানিত সুন্নতের অনুসরণ তথা সুন্নতী খাবার গ্রহণ, তৈজসপত্র ব্যবহার, সুন্নতী পোশাক পরিচ্ছদ পরিধানের আহবান জানান।

পবিত্র যাকাতের গুরুত্ব প্রসঙ্গে আলোচনায় বক্তারা বলেন,নিসাবের অধিকারী প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পবিত্র যাকাতআদায় করা ফরজ। কিন্তু আক্বীদা আমল যাচাই বাছাই ছাড়াসম্মানিত শরীয়ত বিরোধী কাজে লিপ্ত অথবা সম্মানিতশরীয়ত বিরোধী কাজে ব্যবহার করে এমন কোন ব্যক্তি বাপ্রতিষ্ঠানকে যাকাত প্রদান করা জায়িজ নয়। এতে যাকাতআদায় হবেনা। সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী যিনি সবচেয়ে বেশীতাক্বওয়া পরহিযগার এবং সুন্নতের পাবন্দ উনার মাধ্যমে সুষ্টুবন্টনের দ্বারা দারিদ্র বিমোচন সম্ভব হবে এবং যাকাতেরপরিপূর্ণ ফযীলত পাওয়া যাবে।

বক্তারা বলেন, মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ওইয়াতিমখানা মাদরাসাটি সবচেয়ে বেশী তাক্বওয়া পরহিযগারএবং সুন্নত উনার পাবন্দ যামানার ইমাম ও মুজতাহিদরাজারবাগ শরীফ উনার শায়খ আলাইহিস সালাম উনারতত্বাবধানে পরিচালিত। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আক্বীদাবিশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধতম এবং আমল সম্পূর্ণ শরীয়ত সম্মত।যেখানে সর্বক্ষেত্রে সুন্নত উনার অনুসরণ, শরয়ী পর্দাবাধ্যতামূলক। হারাম-কুফরী আক্বীদা আমল থেকে মুক্ত।সকলেই তাহাজ্জুদ গুজার। ‘আল্লাহওয়ালা’হওয়া যাদের মূলউদ্দেশ্য। তাই উক্ত মাদরাসাটি যাকাত প্রদানের সর্বোত্তমসর্বশ্রেষ্ট ও সন্দেহমুক্ত স্থান। তাই সকলের উচিত উক্তমুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ইয়াতিমখানায় যাকাতউশর ফিতরা দান ছদকা প্রদান করা। তাহলে হাক্বীকীভাবেনেকী ও পরহিযগারীতেই সাহায্য সহযোগীতা করা হবে।

আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং আল মুত্বমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালের সৌজন্যে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সুন্নতের ফাযায়িল ফযীলত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা উনার মুহতামিম আল্লামা মুফতি মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন। পবিত্র যাকাতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন, দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মুফতিয়ে আ’যম আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ এবং এছাড়া ব্যবহারিক জীবনে সুন্নতের উপকারিতা এবং অপরিহার্যতা নিয়ে তুলে ধরেন, বিশিষ্ট চাঁদ গবেষক, ফার্মাসিস্ট এবিএম রুহুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দীক হাসান।