৬ বছরে ৭১ আইপিও অনুমোদন এসইসির

৫৩% কোম্পানিই নিম্নমানের

রবিবার, মে ১৯, ২০১৯

ঢাকা: তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই কোম্পানির আয় ও অন্যান্য মৌলভিত্তির তথ্য অতিরঞ্জিত করায় গত ৮ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক বিনিয়োগকারী। যেখানে ২০১০ সালের ধসের পর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), প্লেসমেন্টসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়ে মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগে বাধ্য হন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা। সেসময় পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা, বিভিন্ন অনিয়ম ও আইনি দুর্বলতা দূর করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফিন্যান্সের অধ্যাপক ড. খায়রুল হোসেনকে। তার নেতৃত্বে নতুন কমিশন টানা ৮ বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করলেও আইপিও ও প্লেসমেন্ট নিয়ে বিতর্ক এড়াতে পারেনি এসইসি।

অভিযোগ আছে, নি¤œমানের কোম্পানির তালিকাভুক্তি, অযৌক্তিক প্রিমিয়াম ও লাগামহীন প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের অনুমতির মাধ্যমে কিছু কোম্পানিকে টাকা বানানোর হাতিয়ার হিসেবে পুঁজিবাজারকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন ড. খায়রুল। অচেনা, স্বল্প পরিচিত বিভিন্ন কোম্পানি আইপিও প্রসপেক্টাসে তথ্য অতিরঞ্জিত ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আয় ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখালেও কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের আসল চিত্র বেরিয়ে এসেছে। আইপিওর অনুমোদন পাওয়ার দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়ে (ইপিএস) মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১১ সালের ১৫ মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ড. খায়রুলের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে মোট ৮৫টি কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে আইপিওর পারফরম্যান্স পর্যালোচনার জন্য ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে এসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের অধীন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে মোট ৭১টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি বা ৫৩ শতাংশ কোম্পানিই ছিল নি¤œমানের। কোম্পানির মান বিশ্লেষণে ইপিএস ও সংশ্লিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়কে

প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ মূলত শেয়ারের বাজারমূল্য দিয়ে যাচাই করা হয়েছে। এসব কোম্পানির ইপিএস তালিকাভুক্তির সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। উৎপাদন বন্ধ ও লোকসানের কারণে ইতোমধ্যে ১০টি কোম্পানি ‘জেড ক্যাটাগরি’তেও নেমে এসেছে।

আইপিওর মাধ্যমে বর্তমান কমিশন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেয় কোম্পানিগুলোকে। এর বাইরে রাইট ও রিপিট পাবলিক অফারের (আরপিও) মাধ্যমে আরও হাজার হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রিমিয়াম পেতে যেসব কোম্পানি আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছিল, সেগুলোর বড় অংশের আয়ই কমে গেছে। কোনো কোনো কোম্পানি পড়েছে লোকসানেও।

জানা গেছে, মূলধন উত্তোলন বিষয়ে এসইসির আলাদা বিভাগ ও কমিশনার থাকলেও আইপিও অনুমোদনে চেয়ারম্যানের ইচ্ছাই প্রাধান্য পায়। গত ৮ বছর আইপিওতে স্টক এক্সচেঞ্জের মতামতও উপেক্ষা করা হয়েছে। আইপিও প্রসপেক্টাসে দেওয়া তথ্যের সত্যতা ও যথার্থতার দায় রাখা হয়েছে ইস্যু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। যদিও আইপিওতে দেওয়া ভুল বা মিথ্যা তথ্যের কারণে আজ পর্যন্ত কোনো ইস্যু ম্যানেজারকে শাস্তি পেতে হয়নি। বিতর্ক এড়াতে আইপিওর আবেদন করা কোম্পানির সরেজমিন পরিদর্শন প্রক্রিয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এসইসির অনুমোদনে খেলাপি প্রতিষ্ঠানও নাম পাল্টিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পেরেছে। আবার দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি শুধু কাগজে-কলমে মুনাফা দেখিয়ে বাজার থেকে শত শত কোটি টাকা মূলধন তুলতে পেরেছে। দুর্বল কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেওয়ায় ২০১৩ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক কোম্পানির অর্থ উত্তোলন প্রক্রিয়া আটকেও দেন।

পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ২০১১ সালে প্রতি শেয়ার ২৫ টাকা (১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ) বরাদ্দ মূল্যে পুঁজিবাজার থেকে ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানিটি ৬ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখায় ৩ টাকা ৫ পয়সা, যা বছর শেষে প্রায় ৬ টাকা ১০ পয়সা হওয়ার কথা। তবে তালিকাভুক্তির পর থেকেই কোম্পানিটির আয় কমতে থাকে। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ইপিএস নেমে আসে মাত্র ৬০ পয়সায়। আর চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারে ১ টাকা ৩৭ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে। প্রিমিয়ামে আসা কোম্পানিটির শেয়ার দর নেমে এসেছে অভিহিত মূল্যের নিচে ৮ টাকা ৪০ পয়সায়। একই গ্রুপের অপর কোম্পানি জাহিন স্পিনিং মিলস ২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত হয় অভিহিত মূল্যে। আয় কমে যাওয়ায় এর দরও অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।

২০১১ সালে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস চার মাসে ইপিএস দেখায় ৮৮ পয়সা, যা বছর শেষে ২ টাকা ৬৪ পয়সা হওয়ার কথা। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে তা ৩৯ পয়সায় নেমে এসেছে। আর চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৪১ পয়সা। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারে ১৮ টাকা (৮ টাকা প্রিমিয়ামসহ) নিয়ে তালিকাভুক্ত হলেও এখন এর দর ১৪ টাকা ৬০ পয়সা।

আইপিও ও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো শত শত কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ কোম্পানির আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। বরং ইপিএস ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আইপিও পরবর্তীতে কোম্পানির নতুন করে অর্থের প্রয়োজন না হলেও বছর বছর বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু এর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কোথায় ব্যয় করেছে, তা কখনই কোম্পানিগুলো জানায়নি।

বর্তমান কমিশনের আমলে অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০টি রয়েছে জেড ক্যাটাগরিতে। এগুলো হচ্ছে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ঢাকা ডায়িং, এমারল্ড অয়েল, ইভিন্স টেক্সটাইল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিবিবি পাওয়ার, আইএসএন লিমিটেড, খুলনা পেপার, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও তুংহাই ডায়িং।

২০১২ সালে এসইসির অনুমোদন নিয়ে ১০ কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। সে সময় অভিহিত মূল্যে তালিকাভুক্ত জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনের ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯ পয়সা, যা চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে দাঁড়িয়েছে ৪৪ পয়সায়। শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে ৫ টাকা ৩০ পয়সায়। জিবিবি পাওয়ার ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতি শেয়ার ৪০ টাকায় বরাদ্দ মূল্যে তালিকাভুক্ত হয়। সে সময় ইপিএস ছিল ২ টাকা ৬৩ পয়সা, যা চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে দাঁড়িয়েছে ৭৬ পয়সায়। ২০১৮ সালে কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারায় জেড ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে এ কোম্পানি। একই সময়ে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সও এখন জেড ক্যাটাগরিতে। ইপিএস কমেছে এনভয় টেক্সটাইলস, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, আমরা টেকনোলজিস ও সায়হাম কটন মিলস লিমিটেডের।

তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মুহিতের আপত্তি সত্ত্বেও প্রতি শেয়ার ২২ টাকা বরাদ্দ মূল্যে ২০১৩ সালে আইপিওর অনুমোদন পায় অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স। তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানিটি ইপিএস দেখায় ২ টাকা ৩৬ পয়সা। তালিকাভুক্তির পাঁচ বছরে লোকসানে পড়ে কোম্পানিটি। বর্তমানে এর শেয়ার অভিহিত মূল্যের নিচে ৭ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে। একই সময়ে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে। এর শেয়ার দর অভিহিত মূল্যের অর্ধেকে কেনাবেচা হচ্ছে। একই সময়ে তালিকাভুক্ত ফ্যামিলিটেক্সের উদ্যোক্তারা ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রি করে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শেয়ার দর নেমেছে মাত্র ৪ টাকায়। সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের আয়ও ধারাবাহিকভাবে কমছে। এ ছাড়া বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক, ওরিয়ন ফার্মা ও গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল কোম্পানির ইপিএসও কমেছে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, কোম্পানিগুলো যখন আইপিওতে আসে তখন শেয়ারের ভালো মূল্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে তারা লাভের মাত্রা বাড়িয়ে দেখায়। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ইস্যু ম্যানেজাররাও আয় বাড়িয়ে দেখানোর যোগসাজশে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন এসইসির খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। আইসিএবির সহযোগিতা নেওয়া যেত। এখন তো ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) হয়েছে, কোম্পানি আইপিওতে যে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, দরকার হলে সেগুলো এফআরসিতে পাঠনো যেতে পারে। মির্জ্জা আজিজ বলেন, আমি যখন এসইসির দায়িত্বে ছিলাম, তখন অনেক ক্ষেত্রেই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন আমরা অভ্যন্তরীণভাবে নিরীক্ষা করেছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইসিএবির কাছেও পাঠানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইসিএবি অ্যাকশনও নেয়। বর্তমান কমিশনও এভাবে কাজ করতে পারত। আর কোনো আইপিওতে স্টক এক্সচেঞ্জের মতামত উপেক্ষা করে মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হলে তার পুরো দায় এসইসির।

২০১৮ সালের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের দরপতনেও আইপিও ও প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুতে বড় ধরনের সমালোচনায় পড়ে এসইসি। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয়বারের মতো পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এসইসি। এর ফলে স্থিরমূল্য ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবারও পরিবর্তন আসছে।

প্রতি শেয়ার ৩৫ টাকা বরাদ্দ মূল্যে ২০১৪ সালে ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে হামিদ ফ্যাব্রিক্স লিমিটেড। তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানির ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৫৮ পয়সা, যা চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ১০ পয়সায় নেমেছে। ইপিএস কমে যাওয়ায় বর্তমানে এ কোম্পানির শেয়ার দর নেমে এসেছে বরাদ্দ মূল্যের নিচে ২০ টাকা ৭০ পয়সায়। একই সময়ে প্রতি শেয়ার ২৭ টাকা বরাদ্দ মূল্যে ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ ৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। সে সময় ইপিএস ছিল ২ টাকা ৫৪ পয়সা, যা চলতি হিসাব বছরের ৯ মাসে দাঁড়িয়েছে ৮৯ পয়সায়। আর শেয়ার দর ১৫ টাকা ৩০ পয়সা। প্রিমিয়ামে আসা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ লিমিটেডের তালিকাভুক্তির সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৭ পয়সা, যা চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে মাত্র ২১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে অভিহিত মূল্যে ৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা তুংহাই নিটিংয়ের শেয়ার দর এখন মাত্র ৪ টাকা। খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কোম্পানিটি গত তিন বছর ধরেই লোকসানে। এ ছাড়া ফার কেমিক্যালের ইপিএস কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ। সাবেক গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মালিকানাধীন দি পেনিনসুলা চিটাগং লিমিটেড ৩০ টাকা বরাদ্দ মূল্যে ১৬৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পর এ কোম্পানির আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। বেসিক ব্যাংকের ঋণখেলাপি হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এমারল্ড অয়েলের উদ্যোক্তা পরিচালকরা। দেনায় জর্জরিত কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে তালিকাভুক্ত মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লোকসানে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক ড. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি আইপিও অতিমূল্যায়িত হচ্ছে। তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক ও ইস্যু ম্যানেজাররা মিলে আইপিওতে দেওয়া আয় ও অন্যান্য মৌলভিত্তির তথ্য অতিরঞ্জিত করে। এর মাধ্যমে তারা বিনিয়োগকারীকে বেশি মূল্যে শেয়ার কিনতে প্রলুব্ধ করে এবং পরবর্তীতে যখন কোম্পানির আসল তথ্য বের হয় তখন শেয়ারের দর কমে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক্ষেত্রে আইপিও শেয়ারের যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করতে না পারার দায় এসইসির। তিনি বলেন, এখন এসইসিকে খতিয়ে দেখতে হবে এতগুলো কোম্পানির ইপিএস কমে গেল কেন? যেখানে আইপিওতে অর্থ সংগ্রহের পর কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ার কথা ছিল। এর মানে হচ্ছে, আইপিওতে দেখানো আয় অতিরঞ্জিত ছিল, যেটা এসইসি ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। আইপিওতে কোম্পানিগুলো যে অর্থ সংগ্রহ করেছিল, তার সদ্ব্যবহার হয়েছে কি না, তাও এসইসিকেই দেখতে হবে।

এসইসির অনুমোদন পেয়ে ২০১৫ সালে প্রতি শেয়ার ২৫ টাকা বরাদ্দ মূল্যে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে রিজেন্ট টেক্সটাইলস। তবে তালিকাভুক্তির পরের বছর থেকেই আয় কমছে। তালিকাভুক্তির সময় এ কোম্পানির ৯ মাসের ইপিএস দেখানো হয় ১ টাকা ৫৭ পয়সা, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে তা নেমে এসেছে ৮৬ পয়সায়। আইপিওর অর্থ ব্যবহারেও অনিয়ম করেছে কোম্পানিটি। আয় কমে যাওয়ায় এ কোম্পানির শেয়ার দর এখন ১৫ টাকা ৭০ পয়সা। একই বছর প্রিমিয়াম মূল্যে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করা তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪৯ পয়সা, কমতে কমতে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে তা মাত্র ৩৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই বছরে অভিহিত মূল্যে ৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের প্রতিটি শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে মাত্র ৩ টাকা ১০ পয়সায়। ন্যাশনাল ফিড মিলের আয়ও তালিকাভুক্তির পর থেকেই কমছে।

২০১৬ সালে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা ইয়াকিন পলিমারের আয়ও তালিকাভুক্তির পরই কমতে শুরু করে। গত ৯ মাসে এ কোম্পানির ইপিএস মাত্র ১০ পয়সা। একই বছর তালিকাভুক্ত ইভিন্স টেক্সটাইলের আয়ও কমেছে। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে না পারায় জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে কোম্পানিটি।