অফিসে ঢুকে সরকারি প্রকৌশলীকে পেটালেন আ.লীগ নেতারা

রবিবার, মে ১৯, ২০১৯

ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী ও তিন অফিস সহকারীকে পিটিয়ে আহত করেছেন স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতা। এ সময় অফিস কক্ষ ভাঙচুরও করা হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপুকে আটক করে পুলিশ।

হামলার আহত উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী, অফিস সহকারী শেখ মো. সেলিমুজ্জামান, মো. সাঈদুল ইসলাম ও বলাই চন্দ্র দাসকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী বলেন, সকালে আমি ও আমার সহকারীগণ অফিস খুলতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা আমার নিকট ৫টি আর্সেনিকমুক্ত টিউবয়েল দাবি করেন। আমি আইন বর্হিভূত কোনো কাজ করতে পারব না বলতেই তারা আমার ওপর চড়াও হন। আমি তাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করলে তারা আমাকে মারতে মারতে অফিস কক্ষের ভেতরে তালা দিতে যান। এ সময় আমার অফিস সহকারীরা বাধা দিলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। তাদের মারধরের কারণে মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু দামি জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ হতে সমরজিত ঘরামী বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও এনামুল হক অপুকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাঈদুর রহমান বলেন, রোববার সকালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের দুই নেতার কথা কাটাকাটি এবং মারপিটের খবর আমাদের কাছে আসলে দ্রুত পুলিশ পাঠাই। এ সময় একজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিমাদ্রী খীসা বলেন, সরকারি একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ দেবেন। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তাসহ কর্মচারিদের এভাবে প্রকাশ্যে মারপিট কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে এবং একজন আটক আছে। আশা করি পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিকেও আটক করবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ঘটনার পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা এলাকা ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।