২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করবে খেলাপিরা

শনিবার, মে ১৮, ২০১৯

ঢাকা: ঋণখেলাপিদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন খেলাপিরা। এতে সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ঋণ পরিশোধে বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। আবার ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণও নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনও কিস্তি দিতে হবে না গ্রাহকদের।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ বিআরপিডি সার্কুলারে এ নির্দেশনা দিয়েছে। যা দেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহীর নিকট পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহির্ভুত কারণে ব্যবসায়ী/শিল্প উদ্যোক্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাংকের ঋণ অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত ভাবে পরিশোধিত হচ্ছে না এবং সংশ্লিষ্ট ঋণ বিরূপভাবে শ্রেণিকৃত হয়ে পড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে, উৎপাদনশীল খাতসহ অন্যান্য খাতে স্বাভাবিক ঋণ প্রবাহ বজায় রাখাসহ ব্যাংকিং খাতের বিরূপভাবে শ্রেনিকৃত ঋণ নিয়মিতভাবে আদায়ের লক্ষ্যে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

২। খাত/উপখাতঃ নিম্নোক্ত খাত/উপখাতের যে সকল ঋণ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত রয়েছে সে সকল ঋণগ্রহিতার অনুকূলে ব্যাংকের-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুনঃতফসিল এক্সিট সুবিধা প্রদান করা যাবে।

সুবিধা পাবে যেসব খাত:

ক) ট্রেডিং খাত (গম, খাদ্য দ্রব্য, ভোজ্যতেল ও রিফাইনারী), জাহাজ শিল্প (শিপ-ব্রেকিং ও শিপ-বিল্ডিং) এবং লৌহ ও ইস্পাত শিল্প যেখানে ব্যাংকের বিপুল অংকের বিনিয়োগ রয়েছে,
খ) বিশেষায়িত ব্যাংকের অকৃষি খাতের আমদানি-রফতানিতে সম্পৃক্ত শিল্প ঋণ, এবং
গ) অন্যান্য খাতে ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ নিরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত প্রকৃত ব্যবসায়ী যাদের ঋণ নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হয়েছে।

ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত শর্তাবলী:

ক) পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণগ্রহিতার আবেদন প্রাপ্তির পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ ভিত্তিক হিসাবকৃত স্থিতি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে,
খ) ঋণ স্থিতির ন্যূনতম ২ শতাংশ হারে ডাউন পেমেন্ট নগদে গ্রহণ করতে হবে। ইতোপূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত কিস্তির অর্থ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না,
গ) এ সার্কুলার জারির তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে ঋণগ্রহিতা কর্তৃক আবেদন করতে হবে। এ সময় অতিক্রান্ত হলে কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
ঘ) কেইন টু কেইস বিবেচনায় ঋণ পরিশোধের সময়কাল সর্বোচ্চ ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছর হবে।
ঙ) ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনারোপিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ এবং ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে রক্ষিত সুদ মওকুফ করা যাবে।
তবে, মওকুফকৃত সুদ পৃথক ব্লকড হিসাবে (সুদবিহীন) স্থানান্তর করতে হবে। পুনঃতফসিলের শর্তানুযায়ী সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের পর ব্লকড হিসাবে রক্ষিত সুদ চূড়ান্ত মওকুফ হিসেবে বিবেচিত হবে।

চ) ঋণ স্থিতির উপর কস্ট অব ফান্ড + ৩ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। তবে সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। ১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ হতে উক্ত হারে সুদ আরোপ কার্যকর হবে,
ছ) ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক কিস্তি নির্ধারণ করতে হবে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী আনুপাতিক হারে আসল এবং সুদ বিবেচনায় নিয়ে কিস্তির পরিমাণ নির্ধারিত হবে,
জ) ঋণ পরিশোধের জন্য ৯টি মাসিক কিস্তির মধ্যে ৬টি মাসিক কিস্তি অথবা ৩টি তৈমাসিক কিস্তির মধ্যে ২টি তৈমাসিক কিস্তি অনাদায়ী হলে এ সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং সংশ্লিষ্ট ঋণহিসাবকে মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে।
ঝ) ব্যাংক কর্তৃক পুনঃতফসিল সুবিধা প্রদানের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ও গ্রাহক সোলেনামার মাধ্যমে চলমান মামলার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরবর্তীতে কোন গ্রাহক প্রদত্ত সুবিধার কোন শর্ত ভঙ্গ করলে তার অনুকূলে প্রদত্ত সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গ্রাহকের বিরুদ্ধে স্থগিত মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, এবং
ঞ) পুনঃতফসিল পরবর্তীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংক কর্তৃক নতুন করে ঋণ প্রদান করা যাবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে তাদের প্রচলিত ঋণ নীতিমালা অনুসরণ করবে। নতুনভাবে প্রদত্ত ঋণ যথানিয়মে পরিশোধে ব্যর্থ হলে এ সার্কুলারের আওতায় প্রদত্ত সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে।