ডিপ্রেশনের যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : মন খারাপ, স্ট্রেস, কাজের চাপ এ সব আজকাল আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু যারা অতিরিক্ত ডিপ্রেশনে ভোগেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার একটা সময় আছে। কারণ মন খারাপের অন্ধকারে ক্রমশ তলিয়ে যেতে বসা মানুষগুলো অধিকাংশ সময়েই মনের কথা ভাগ করে নিতে পারেন না।

এসব থেকে নিস্তার নেই শিশু বা কিশোর-কিশোরীদেরও। বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষ আত্মহত্যাপ্রবণও হয়ে উঠতে পারে। জেনে নিন ঠিক কোন কোন লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন যে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে-

সারাদিন ক্লান্ত লাগবে, কিন্তু ঘুম হবে না ঠিকমতো:

কখনও এমন হবে যে দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও ঘুম আসবে না, কখনও আবার এত ঘুমোবেন যে দৈনিক রুটিন তাতে ব্যাহত হবে। ডিপ্রেশন প্রথমেই আপনার এনার্জির ভাঁড়ারে থাবা বসাবে, যে যে কাজগুলো করতে একটা সময়ে ভালো লাগত, সেগুলো আর উপভোগ করবেন না এবং সারাদিন ক্লান্তিতে ভুগবেন।

আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না:
কান্না, রাগ, বিরক্তি – কোনওটার উপরই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন না। এই রাগ হবে, পরক্ষণেই কান্না পাবে। সোজা কথায়, সাঙ্ঘাতিক মুড সুইং হতে থাকবে।

নিরাশ লাগবে সারাক্ষণ:
যে কোনও পরিস্থিতিতেই আগে নেগেটিভ চিন্তাভাবনা মাথায় আসবে। নিজেকে অসহায় মনে হবে, কোনও কাজই করতে ইচ্ছে হবে না, কারণ আপনার মাথায় সারাক্ষণ ব্যর্থতার চিন্তাভাবনাটাই ঘুরবে।

আগে যে সব অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে যুক্ত থাকতেন, সেগুলি আর আপনাকে আকর্ষণ করবে না: খেলাধুলো, গান শোনা, বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা বা নাটক দেখতে যাওয়ার নাম শুনলেই ক্লান্তি আসবে। উৎসাহ পাবেন না কিছুতেই। কোনও হবি বা বিনোদনই আপনাকে আর আকর্ষণ করবে না।

শরীরে অস্বস্তি বা ব্যথা-বেদনা বাড়বে:
কোনও চোট-আঘাত বা অসুস্থতা ছাড়াই অদ্ভুত ব্যথা টের পাবেন শরীরে। কখনও মনে হবে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, বা গাঁটে-গাঁটে প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে-মাথায় কোনও কারণ ছাড়াই ব্যথা-বেদনার কমপ্লেনও ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।

নিজেকে ভালো লাগবে না:
নিজের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মাবে। মনে হবে আপনি কোনও কর্মের নয়, ছোট ছোট ভুলের জন্যও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না।

খাওয়াদাওয়ার প্যাটার্নে ফারাক:
কেউ কেউ ডিপ্রেশনের কবলে পড়ে প্রচুর খাওয়াদাওয়া আরম্ভ করেন, কেউ আবার একেবারেই ছেড়ে দেন। ফলে ওজনেও বিরাট পরিবর্তন আসতে আরম্ভ করে।

মনঃসংযোগে সমস্যা:
মন দিয়ে কোনও কাজই করতে পারবেন না। ছোট ছোট বিষয় ভুলে যাবেন, ফলে কাজে ভুল-ভ্রান্তি বাড়বে। তেমন হলে আবার আরও দ্রুত বেগে অন্ধকূপে তলিয়ে যাবেন।

ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে:
অত্যন্ত দ্রুতবেগে গাড়ি চালানো, জুয়া খেলা, নেশা বা বিপজ্জনক খেলাধুলোর প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। নিজের ক্ষতির চিন্তা তুচ্ছ করেও খানিকক্ষণের উত্তেজনার জন্য এই ধরনের কাজের সঙ্গে আপনি যুক্ত হবেন।