একমাত্র আশ্রয়কেন্দ্রও ভাঙছে

মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানার ভয়ে তিন শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতে অনেকে সেখান থেকে চলে যায়। উপকূলের মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থলটি এখন বিষখালী নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পশ্চিম দেউরী গ্রামে বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-আশ্রয় কেন্দ্রের একাংশ। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া পানির তোড়ে গত শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের একটি পানির ট্যাংক ও নলকূপ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে বেইসমেন্টের নিচের মাটি সরে গিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীতে চলে যেতে পারে ভবনটি। আতঙ্কে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষকরা এলেও সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মাত্র চার বছর আগে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পশ্চিম দেউরী গ্রামে বিষখালী নদীর তীরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। ইমারজেন্সি সাইক্লোন রিকভারি অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্টের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভবন নির্মাণ করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ভাঙনকবলিত বিষখালী নদীর মাত্র ১০০ গজের মধ্যে এ ধরনের ভবন নির্মাণে স্থানীয় লোকজন আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। তখন বলা হয়েছিল, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীশাসনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভবনটি ভাঙনের চূড়ান্ত ঝুঁকিতে ছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়-কাম-আশ্রয় কেন্দ্রের পাশ দিয়ে যাওয়া সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় বাজারটিও। সরে গেছে ভবনের বেইসমেন্টের নিচের মাটি। সেখানে ঢুকে পড়েছে পানি। ভবনটি এখন শুধু পাইলিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিন পাশেই বিষখালীর পানি থইথই করছে। ১৩৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বিদ্যালয়ে ভয়ে ক্লাসে আসছে না অনেকে। কমে গেছে উপস্থিতির হার। যেকোনো সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বিদ্যালয়টি। শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নয়, নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাজার, সড়ক, বসতঘর, ফসলি জমিসহ অসংখ্য গাছপালা।

দেউরী গ্রামের হাসেম আলী হাওলাদার বলেন, ‘আবহাওয়ার সংকেত শুনে আগে আশ্রয় নিতাম বিদ্যালয়ে। সরকার আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে এটি নির্মাণ করে। কিন্তু আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণের স্থান নির্ধারণ সঠিক হয়নি। নদীর পাশে নির্মাণ করায় ভেঙে যাচ্ছে। আশ্রয় নেওয়ার স্থানটি যদি হয় ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে আমরা যাব কোথায়?’

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তরিকুল ইসলাম বলে, ‘আমরা সব সময় নদীভাঙনের ভয়ে থাকি। ক্লাসে মনোযোগ থাকে না। শিক্ষকরাও আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।’

পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয় রক্ষার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও প্রতিকার পাইনি। এখন এটি নদীগর্ভে বিলীন হলে স্থানীয় লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়বে। কর্তৃপক্ষের কাছে এটি রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীশাসনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও সেটি শেষ না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাইক্লোন শেল্টারটি রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আতাউর রহমান বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্র রক্ষায় দ্রুত কার্যক্রম শুরু হবে।’