প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত, ৪ মাসে ৫৭৯ কোটি ডলার

রবিবার, মে ১২, ২০১৯

ঢাকা: হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় চলতি বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫৭৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫১৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বছরের প্রথম ৪ মাসে প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অর্থাৎ ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই প্রবাসী আয় আরো বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে দেশে প্রবাসীরা অর্থ পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৩৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার বা ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুন ’১৭ থেকে এপ্রিল ’১৮ পর্যন্ত) প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল ১ হাজার ২০৯ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই মাসে প্রবাসীরা অর্থ পাঠায় ১৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আগস্টে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১১৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১১৮ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ১২৩ কোটি ডলার, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ১৫৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, মার্চে ১৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের বিষয়ে সোচ্চার হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে বাজেটে অর্থমন্ত্রী প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে মাশুলও কমিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেন। সেই সময়ে প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় দেশে অর্থ প্রেরণের বিষয়টি সহজিকরণের পাশাপাশি মাশুলও প্রত্যাহারের আলোচনা ওঠে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবৈধ পথে দেশে অর্থ প্রেরণের পথ বন্ধে উদ্যোগ নেয়। মূলত এর পর থেকে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়।

সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই বেড়েছে প্রবাসী আয়। গত জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ ১৫৯ কোটি ডলার দেশে পাঠায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে ২০০৪ সালের জুলাই মাসে ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। গত জানুয়ারির আগে এটিই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় হয় ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, মার্চে ১৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, সর্বশেষ গত এপ্রিলে আসে ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।

পঞ্জিকা বছর হিসাবে, ২০১৮ সালে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার এবং ২০১৫ সালে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।

অর্থবছর হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে প্রবাসী আয় বেড়েছে। বিশেষ করে হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের জিডিপিতে অবদান রেখেছে ১২ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষদেশগুলো হলো- সৌদি আরব, আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।