ওয়েজবোর্ড ঘোষণা না হলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা সাংবাদিকদের

সোমবার, মে ৬, ২০১৯

ঢাকা : গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে ছাঁটাই বন্ধ বন্ধ করা, নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাশ না হলে আগামী ১৫ মে থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করবে সাংবাদিকরা। এমন ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি মোল্লা জালাল।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করার সময় এমন ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

গণমাধামে ঢালাইভাবে ছাঁটাই বন্ধ করা, নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ করা, সংসদ অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাশ করা, ঈদের আগে বেতন বোনাস প্রদানসহ চৌদ্দ দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতি, বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশন, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স, ঢাকা সাবএডিটরস কাউন্সিল, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।

বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, গণমাধ্যমে একটি মাফিয়া চক্রের জন্ম হয়েছে। তারা চায় নিরঙ্কুশভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে। সংবাদপত্র মালিকদের হুঁশিয়ার করে মোল্লা জালাল বলেন, সাংবাদিকদের ঘামে ভেজা শ্রমের বিনিময়ে আপনাদের পত্রিকা বের হয়।

আপনারা সে পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞাপন পান। নানা সুযোগ সুবিধা নেন। সমাজে আপনাদের ফেসভ্যালু বাড়ে। অথচ সাংবাদিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। যখন তখন সাংবাদিক ছাঁটাই করা হয়। বছরের পর বছর যায়। কিন্তু সাংবাদিকদের বেতন বাড়ে না। ওয়েজ বোর্ড ঘোষিত হয় না।

মোল্লা জালাল বলেন, সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে মাফিয়াদের দালাল ঢুকে গেছে। তাদের হুঁশিয়ার করে বলছি, এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাদেরকে প্রেসক্লাব অঙ্গনে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে বাধ্য হই।

সংবাদপত্র মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা পত্রিকা কত কপি বের করেন আর সরকারকে কত কপির হিসাব দেন তা আমাদের জানা আছে। সব গোমর ফাঁস করে দেব।

উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি এক থাকি তাহলে এমন আন্দোলন করব সব মাফিয়া মালিকরা কোনঠাসা হয়ে যাবে। দিশা পাবে না।

বিএফইউজে যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মজিদ এর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ। তিনি বলেন, যে সব পত্রিকা অন্যায়ভাবে রেড কার্ড দিয়েছে তা তদন্ত করতে হবে। হঠাৎ করে কোন কোন পত্রিকার বার্তা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কোন আইনে কোন বিধিমালায় বার্তা বিভাগ বন্ধ করা হচ্ছে তার জবাবদিহি করতে হবে।

শাবান মাহমুদ এ সময় ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সময় যারা ছাত্রদল করত আজকে তাদের অনেকে সরকারের বিভিন্ন দফতরে বুদ্ধি দাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারাই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এখন প্রতিক্রিয়াশীলদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, সাংবাদিকরা যতো অধিকার আদায় করেছে তা লড়াই করেই আদায় করেছে। তিনি বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনের ১০৪ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় সংবাদপত্রের জন্য। বাকি ৯০০ টাকা পর্যন্ত যেটা দেওয়া হয় সেটা দেয় সাংবাদিক- কর্মচারিদের কল্যানের জন্য। আমাদের বেতন বোনাসের জন্য। কিন্তু মালিকপক্ষ পুরো টাকা আত্মসাৎ করে তাদের ভাগ্য পাল্টায়। সাংবাদিকদের অবস্থার পরিবর্তন হয় না। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক প্রতিবাদ করেছি। এবার প্রতিরোধ করব। দেশে ছত্রিশটি টেলিভিশন আছে। কিন্তু মাত্র দু’চারটি ছাড়া আর কোথাও বেতন কাঠামো নেই। প্রয়োজনে স্থায়ী মঞ্চ করে আন্দোলন চলবে।

সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজা বলেন, পত্রিকার মালিকরা যদি ব্যবসায়ে ব্যর্থ হন সেটার দায়ভার সাংবাদিকদের নয়। সব গণমাধ্যমে মালিকরা প্রশাসন বিভাগে ও মার্কেটিং বিভাগে কিছু চাটুকার রাখেন যারা তার নিজের লোক। যদি তিনি ব্যবসায়ে ব্যর্থ হন তার দায়ভার সেই চাটুকারদের। তাহলে কেন সাংবাদিককে তার দায় নিতে হবে। কেন সাংবাদিক ছাঁটাই হবে? কেন বছরের পর বছর সাংবাদিকের বেতন বাড়ে না?

বক্তারা এ সময় আরও বলেন, গণমাধ্যমগুলো আজ সমস্যার পাহাড়। অনেক প্রতিষ্ঠানে মাসের পর মাস বেতন হয় না। যেখানে বেতন হয় সেখানে ইনক্রিমেন্ট হয় না, যেখানে ইনক্রিমেন্ট হয় সেখানে কোনও নীতিমালা ছাড়া বেপরোয়াভাবে ছাঁটাই চলছে। যা কোনভাবে মেনে নেওয়া হবে না।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক কবীর আহমেদ খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ, নারী সাংবাদিক সমিতির প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারন সম্পাদক আবু জাফর, বাংলাদেশ ক্যামেরা জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফারুক বিপ্লব, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক মুক্তাদির রহমান, সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার, প্রেস ফেডারেশনের সভাপতি আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব প্রেস ওয়ার্কার্সের মহাসচিব কামাল হোসেন, প্রেস ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ তোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।