দেশনেত্রীকে মুক্ত করে তবেই ঘরে ফিরবে জনগণ: রিজভী

শুক্রবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৯

ঢাকা : সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এদেশের কোটি কোটি জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যাবে না। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। একদলীয় নিষ্ঠুর শাসনের কষাঘাত থেকে দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করতে জনগণ এখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাঁকে কারামুক্ত করেই ঘরে ফিরবে জনগণ।’

শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজধানীর নয়াপল্টনে পথসভায় এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন। বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ও আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নির্দোষ বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখার উদ্দেশ্যই ছিল মধ্যরাতে নির্বাচন করা। এই নির্বাচন ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক রাতের আঁধারে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করা।’

তিনি বলেন, ‘জবাবদিহিতাহীন সরকারের দুঃশাসনে সাম্প্রতিককালে এক ভয়াবহ নারী নির্যাতনের শিকার নুসরাত জাহান রাফিসহ দেশব্যাপী নারী হত্যা, নারী নির্যাতনের হিড়িক পড়েছে। অনাচার-অবিচার চরম মাত্রায় উপনীত হয়েছে। রাষ্ট্র-সমাজে নৈরাজ্যের ব্যাপক বিস্তারে মানুষের জানমালের কোনও নিরাপত্তা নেই। ক্ষমতাসীন দলের লোক হলে তার সাতখুন মাফ, আর বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা যারা ন্যায়ের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার তাদের মায়ের কোল খালি করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের ঠিকানা নির্ধারণ করা হয়েছে একমাত্র কারাগারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাসীন মহলের পছন্দের লোকেরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়ে মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তাকে অনিশ্চিত করেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে দূষিত পানি পান করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এতে দূষিত পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ঢাকাবাসী। চারিদিকে শুধু জন্ডিস, কালাজ্বর, ডেঙ্গুজ্বর, টায়ফয়েড, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার খবর ভেসে আসছে, এই সরকারের আমলে মানুষের বেঁচে থাকাটায় সবচেয়ে কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘এই প্রচণ্ড খরতাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং জনজীবনকে দূর্বিষহ করে তুলেছে। এখন সারাদিনে দু’এক ঘণ্টার বেশি গ্যাস থাকে না। গ্যাসের এই তীব্র সংকটে কল-কারাখানা, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালির কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। সুষ্ঠু ভোট, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি শেখ হাসিনা কবরে পাঠিয়েছেন বলেই সমাজে অনাচার, সন্ত্রাস ও রক্তপাতের এখন বাড়বাড়ন্ত।’

এর আগে বেগম জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে সকাল সোয়া ৭টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে রিজভীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটিতে শত শত নেতাকর্মীর অংশ নেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

রিজভী নেতৃত্বে মিছিলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, দফতর সম্পাদক এ বি এম রাজ্জাক, কাফরুল থানা বিএনপি সভাপতি আক্তার হোসেন জিল্লু, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দিলু, আ: আউয়াল, এনায়েত হাফিজ, ইঞ্জিনিয়ার মজিবুল হক, হারুন অর রশীদ খোকা, ছাত্রনেতা মাসুদসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নেন।