সংসদে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির’ কথা বলবেন জাহিদুর

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

ঢাকা : দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেছেন, তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ (রানীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন।

তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা শপথ নেন, তারা ‘জনদুশমন’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সময়মতো তাদের বিচার হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো সংসদে আসা জাহিদুর রহমান জাহিদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ নিরপরাধ নেতাকর্মী তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মিথ্যা মামলার প্রত্যাহারের জন্য আমি সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাব যে আপনি দেখেন। কারণ, এইগুলোর বাদী হচ্ছে পুলিশ। পুলিশ যা করেছে, সব মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) লোক কোনো মামলা করেনি। কাজেই আপনার এটা দেখা উচিত। গণতন্ত্রের স্বার্থে সেইসব মামলা প্রত্যাহার করার আমি দাবি রাখব।’

জাহিদুর আরো বলেন, ‘সঙ্গে সঙ্গে আমার নেত্রীকে (বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া), এজন বয়স্ক মহিলা, ৭৩ বছর বয়স, উনাকে যেন গণতন্ত্রের স্বার্থে মুক্ত করে দেয়, এই আহ্বান আমি জানাব সংসদে। এটাই আমার প্রথম অঙ্গীকার।’

বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেন। স্পিকারের একান্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চিঠি পেয়ে সংসদ সচিবালয় আজ দুপুরে জাহিদুর রহমানের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে গেছেন বলে তারা শুনেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে দলের কাউকে কিছু জানাননি। তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৩০০ প্রার্থীর মধ্যে জাহিদকে নিয়ে মোট ২৯৫ জন এ পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত আর পাঁচজন এখনও শপথ নেওয়ার বাকি।

এদিকে এমপি জাহিদুর শপথ গ্রহণ করায় স্থানীয় জেলা বিএনপির নেতারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। অপরদিকে তিনি শপথ গ্রহণ করায় সাধুবাদ জানিয়েছেন নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা এলাকার উন্নয়নে এমপি জাহিদকে কাজ করার আহ্বান জানান।

শপথ গ্রহণের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শপথ গ্রহণ করার আগে জাহিদুর ইসলাম জেলা কমিটিকে কোন লিখিত আবেদন করেননি। তিনি নিজ উদ্যেগে শপথ গ্রহণ করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও ঠাকুরগাঁও-৩ আসন (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল) থেকে নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন জাহিদুর রহমান জাহিদ।

রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন। ১৯৯১ সাল থেকে জাহিদুর রহমান নির্বাচন করছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর মানুষের সহানুভূতির কারণে তিনি জয়ী হয়েছেন।

জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। এ ছাড়া মহাজোটের প্রার্থী মো. ইয়াসিন আলী (নৌকা) ৩৮ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ (লাঙ্গল) ২৭ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট আটজন নির্বাচিত হন। তার মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন ও গণফোরাম থেকে দুজন নির্বাচিত হন।

গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসনে নির্বাচিত হন। তিনি গত ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এদিন বিকেলেই সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। এখন তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে ৭ মার্চ গণফোরাম থেকে সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানও ২ এপ্রিল শপথ নেন।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বর্জন এবং শপথ না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি, তা এখনো বহাল আছে।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিতে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে বিজয়ী প্রার্থীদের। সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে স্পিকারকে চিঠি না দিলে ৩০ এপ্রিলের পর তাদের আসন শূন্য হয়ে যাবে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এসব শূন্য আসনে অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন।

এ পরিস্থিতিতে বিএনপি থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা আশা করছিলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে দল সিদ্ধান্ত পাল্টাবে, শপথ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে হাইকমান্ড থেকে। ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান আর সেই ইঙ্গিতের অপেক্ষা করলেন না।