খালেদা জিয়া আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন : আইনমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

ঢাকা : খালেদা জিয়া তার মামলা মোকাবিলা করতে সরকারের আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘যেসব ব্যক্তি অর্থের অভাবে মামলা পরিচালনা করতে পারছেন না, নিজের অর্থে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারায় কারাগারে আটক রয়েছেন, সরকার কেবল তাদেরই আইনগত সহায়তা দিচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাদের মধ্যে পড়ছেন না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘জাতীয় আইনগত সেবা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।’

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি। তার জামিন হচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার জামিনের বিষয়ে তাকে কোনো আইনগত সহায়তা দেবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু অসহায় নাগরিকদেরই আইনগত সহায়তা দিয়ে আসছে। সরকারের আইনগত সহায়তা কারা পাবেন, আইনের এ সংক্রান্ত ধারাটি তিনি সাংবাদিকদের পড়ে শোনান।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট তিন লাখ ৯৩ হাজার ৭৯০ জনকে বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ১৮ হাজার জনকে আইনি পরামর্শ সেবা, দুই লাখ ৪০ হাজার জনকে মামলায় সহায়তা, ১৭ হাজার ৯২৯ জনকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা এবং ১৭ হাজার ৩২৮ জনকে হট লাইনের মাধ্যমে তথ্য সেবা প্রদান করা হয়।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে ৩৭ হাজার বিচারপ্রার্থীকে আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ৮২ হাজার বিচারপ্রার্থীকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নুসরাত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, নুসরাত হত্যা ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রায় সবাই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বিচারটা শেষ করার ব্যাপারে আমাদের আগ্রহ আছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করা। প্রসিকিউশন থেকে যেসব প্রিপারেশন দরকার, আমরা সেগুলো নিয়ে রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দাখিল হলেই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন (বিচার পরিচালনা বিভাগ) প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। রাজন হত্যা মামলা দ্রুত শেষ করতে পেরেছি, রেকর্ড টাইমে। এ রকম তাড়াতাড়ি কোনও মামলা শেষ হয়নি বাংলাদেশের ইতিহাসে, ঠিক সে রকমভাবেই আমরা এটাকে শেষ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।