রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে ৩ মে মিয়ানমার-বাংলাদেশ বৈঠক

বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

ঢাকা : রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে নতুন করে আলোচনা। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে এই আলোচনা হওয়ার কথা ৩ মে। জানা গেছে, দু’দেশের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের প্রথম দফা উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর এটাই প্রথম বৈঠক।

শুক্রবার (৩ মে) রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-স্থায়ী সচিব ইউ অং কাইওয়া জান।

তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তন শুরু করতে মিয়ানমার অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে যাবে। তার ভাষায়, সম্পাদিত চুক্তির অধীনে সামনে অগ্রসর হতে হবে আমাদেরকে। কিন্তু আমি জানি না আমাদের প্রস্তাবে বাংলাদেশ কিভাবে সাড়া দেবে। প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের উত্তম পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবে মিয়ানমার।

মন্ত্রণালয়ের মতে, হিন্দু সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের অবিলম্বে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। বলা হয়েছে, এসব শরণার্থী দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সমাজকল্যাণ বিভাগের সদস্য ইউ কো কো নাইং বৈঠকের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। তবে এতে কি এজেন্ডা থাকছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেন নি তিনি।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আগামী ৩ মে মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হবে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রুনাই সফর উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে আরাকান সালভেশন আর্মির (আরসা) চালানো হামলার জবাবে দেশটির সেনাবাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায়। এতে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তাদের কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। সেই থেকে তাদেরকে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার ওপর ভিত্তি করে ২০১৭ সালের নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে একটি ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোতে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় দু’দেশের মধ্যে। অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ব্যাচে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু মিয়ানমারে তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নি বলে তারা দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। এ জন্য প্রত্যাবর্তন থেমে যায় শেষ মুহূর্তে। এর আগে প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা বেশ কয়েকবার স্থগিত করা হয়। ওদিকে প্রথম ব্যাচের রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করছে মিয়ানমার।