মামলার আইও-পিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

ঢাকা : সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বগুড়ার এক মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করায় মামলা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ না করায় মামলা সংশ্লিষ্ট পিপির (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার হাইকোর্ট বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বগুড়া সদর থানায় করা এক মামলায় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে উল্লেখ করে এক আসামির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

আদালতে আজ আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে রুবেলের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তারিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় অভিযোগপত্র দিতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়া লাগে। কিন্তু বগুড়ার এক মামলায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেননি। অনুমতি না নেয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওই মামলার তদন্তের সময় একই বছরের ২৪ আগস্ট রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। ২৪ নভেম্বর রফিকুলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

পরে ২০১৫ সালে মামলাটি বগুড়ার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪-এ বদলি করা হয়। ওই মামলায় বিচারিক আদালতে রফিকুল জামিন চাইলে গত বছরের ৬ জুন তা নামঞ্জুর হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন রফিকুল। এর ওপর আজ শুনানি হয়। এ মামলায় পাঁচ বছর ধরে রফিকুল কারাবন্দি আছেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন (সংশোধন) ২০১৩-এর ৪০-এর ২ উপধারা অনুসারে অভিযোগপত্র দাখিলের আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। অথচ ওই মামলায় অনুমোদন ছাড়াই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই যুক্তিতে জামিন আবেদন করা হলে হাইকোর্ট রফিকুলকে জামিন দিয়েছেন।