গুজরাটের দাঙ্গায় সেই গণধর্ষিতাকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ

বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০০২ সালে ভারতের গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় গণধর্ষণের শিকার মুসলিম নারী বিলকিস বানুকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সাথে তাকে সরকারি চাকরি এবং বাসস্থানের ব্যবস্থাও করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে গুজরাট সরকারকে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার আপিল বিভাগ এই নির্দেশ দেন বলে দেশটির গণমাধ্যম এখবর দিয়েছে।

গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিসের বানুর বয়স ছিল ২১ বছর। তাকে ওই সময় ধর্ষণ করা হয়েছিল ২২ বার। তার তিন বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল। মার্চে এ জন্য গুজরাট সরকার তাকে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে চায়। কিন্তু বিলকিস তা প্রত্যাখ্যান করেন।

আদালত জানান, বিলকিসকে শুধু ২২ বার ধর্ষণই করা হয়নি, তাঁর তিন বছরের মেয়েকেও হত্যা করেছিল ধর্ষণকারীরা। তারপর থেকেই যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বিলকিস। এখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর। তাঁর পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই। পড়াশোনাও তেমন জানেন না। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দয়ায় বেঁচে রয়েছেন।’

রাজ্যের বেশ কিছু পুলিশ অফিসার তদন্ত ভিন্ন পথে চালিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে এর আগে মুম্বাই হাইকোর্টে অভিযোগ করেছিলেন বিলকিস বানু। ২০০৮ সালে সেখানে ১১ জন দোষী সাব্যস্ত হলেও ওই পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ দিন বিলকিস বানুর আইনজীবী আদালতে জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন অবসর নিয়েছেন। পঞ্চমজন, আইপিএস অফিসার আরএস ভাগোরা অবসর নেয়ার পথে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে গুজরাট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। ওই সময়ে হিন্দু পুণ্যার্থীদের একটি ট্রেনে লাগা আগুনে ৬০ জন নিহত হন। ট্রেনে আগুনের ঘটনা মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। প্রতিশোধের নেশায় উন্মুত্ত হিন্দুরা গুজরাটের শহর ও গ্রামগুলোর মুসলিম জনবসতিতে তিনদিন ধরে তাণ্ডব চালায়। শত শত মুসলিমকে পুড়িয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে তারা।

এরপরই হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে এই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভারতজুড়ে। ভারতের স্বাধীনতার পর সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোর মধ্যে গুজরাট দাঙ্গা অন্যতম।

ওই দাঙ্গায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, এদের অধিকাংশই মুসলমান। ওই দাঙ্গার সময় গুজরাটের পুলিশ দাঙ্গাবাজদের থামানোর চেষ্টা তো করেইনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছিল। মুসলিমবিরোধী ওই দাঙ্গায় উগ্র হিন্দুবাদী বিজেপি দলের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ছিল বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল।