গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৭ বছরের জেল

বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

ঢাকা : যুক্তরাজ্যে ৬ কোটি টাকার অধিক অর্থপাচারের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যবসায়িক বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তার জরিমানাও করা হয়েছে ১২ কোটি টাকা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, এর আগে ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এ দিন ঠিক করে দেন।

প্রসঙ্গত, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিটিএল ও গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান এম শাহজাদ আলী রেলওয়ের সিগন্যাল সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ পান দরপত্রের মাধ্যমে। কিন্তু কার্যাদেশ চূড়ান্ত করার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বন্ধু মামুন অবৈধ কমিশন দাবি করেন শাহজাদের কাছে এবং তা না দিলে কার্যাদেশ বাতিলের হুমকি দেন।

ওই হুমকি দিয়ে মামুন ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৬ কোটি এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ থেকে লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে পাচার করেন। এই অভিযোগে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

পরের বছর ২৬ এপ্রিল ওই একই ব্যক্তি মামলাটি তদন্ত করে মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

বিগত তত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে আরেকটি অর্থপাচার মামলায় একই আদালত ২০১৩ সালে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।