পুঁজিবাজারে সূচকের পতন

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

ঢাকা : পুঁজিবাজার বর্তমানে মন্দা সময় পার করছে। মাঝে মধ্যে সূচকের উত্থান থাকলেও বেশিরভাগ কার্যদিবসে পতনের মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে লেনদেন। তবে গত দুই কার্যদিবসে কিছুটা উত্থান হলেও, গতকাল অর্থমন্ত্রীর সাথে বিএসইসির বৈঠক শেষে আজ ফের পতনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে উভয় পুঁজিবাজারের লেনদেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৬২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৬০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২১৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৭২ পয়েন্টে।

গতকাল পুঁজিবাজার ইস্যুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে সূচকের হঠাৎ উত্থান-পতনের পিছনে কেউ কেউ জড়িত রয়েছেন। আমরা ১৯৯৬, ২০১০ সালে এই ধরনের ঘটনা দেখেছি। যারা এসব ঘটনার পেছনে জড়িত তাদের কে খুঁজে বের করার কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময় মার্কেট স্বাভাবিক রয়েছে। সূচক ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্ট থেকে ৫ হাজার ৩০০ পয়েন্ট নিয়ে গেলে তেমন কোন বড় কিছু নয়। জাপানের শেয়ারবাজারে ১৯৮৯ সালে সূচক ছিল ৩৯ হাজার সেটা ২০০৭ সালে মাত্র ৭ হাজার পয়েন্ট এ নেমে আসে আবার ইন্ডিয়াতে সূচক ২১ হাজার পয়েন্ট থেকে ৭ হাজার পয়েন্ট এ নেমে আসে। মার্কেটে এই ধরনের উত্থান-পতন ঘটেই, এটা কোন বিষয় না।

তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, পুঁজিবাজারে গতিশীলতা ফেরানো এবং এই বাজারের উন্নয়নে আসন্ন জাতীয় বাজেটে বেশ কিছু আর্থিক প্রণোদনা থাকবে। সব প্রণোদনাই হবে মূলত কর সংক্রান্ত।পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে কিছু বিষয়ের প্রতিফলন আগামী অর্থবছরের বাজেটেই থাকবে।

বাজারকে আরও শক্তিশালী করা, এর ব্যাপ্তি বাড়ানো, আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই বাজারে সম্পৃক্ত করা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুবিধা ইত্যাদি বিবেচনা করে বাজেটে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কর-ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে লভ্যাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আগাম আয়কর (Advance Income Tax-AIT) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে।