যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের অর্থ ট্যাক্সপেইড: রিজভী

শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯

ঢাকা : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যে যে অর্থ আছে তা ইনল্যান্ড রেভিনিউতে ট্যাক্সপেইড বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার বলতে চাই, তার কোনও অবৈধ অর্থ নেই। সেখানে তার যা অর্থ আছে তা ইনল্যান্ড রেভিনিউতে ট্যাক্সপেইড অর্থ। সে দেশে আইনের শাসন রয়েছে। ফলে আনডিসক্লোজড মানি ট্র্যানজেকশনের সুযোগ নেই।’

শনিবার (২০ এপ্রিল)সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকার ও তাদের আন্দোলনের ফসলরা ১২ বছর ধরে তন্নতন্ন করে খুঁজেও তারেক রহমানের অবৈধ সম্পদের সন্ধান পায়নি। অথচ ঢালাওভাবে তার বিরুদ্ধে কত যে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে অপপ্রচার করেছে তার ইয়ত্তা নেই। এখন দুদককে দিয়ে আরেকটি কুৎসা রটনার নতুন অধ্যায় শুরু করছে। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে আইনসিদ্ধ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের কোনও এখতিয়ার নেই। দেশে যে অপরাজনীতি চলছে, এটা তারই প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আদালতে ব্যবহার করে সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের নামে যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে থাকা তিনটি হিসাব জব্দের নির্দেশের আদেশ করিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সরকারের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত একটি আদেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে৷ মিথ্যা সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে অন্যায়ভাবে। এখন বিএনপিকে চাপে ফেলতে এই সরকার দুদককে দিয়ে একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা আবেদনের মাধ্যমে আদালতকে দিয়ে আদেশ করিয়েছে। এটি একটি আষাঢ়ে গল্প।’

রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যেভাবে সুসংগঠিত হচ্ছে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সরকার ভীত হয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে কাল্পনিক মিথ্যা অভিযোগ সামনে এনেছে। কারণ এখন সরকার যা বলে নিম্ন আদালত তাই করে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আর যদি সরকারের নির্দেশ না মেনে কোন বিচারক ন্যায় বিচার করেন তাহলে তাদেরকে দেশ ছাড়তে হয়, যার উৎকৃষ্ট প্রমাণ বিচারক মোতাহার হোসেন ও প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বলেছেন, ‘সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছি, জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এবার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র- সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার-সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারা চেয়েছে, তাদের সেবা করার জন্য মানুষ ভোট দিয়েছে।’ – প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন ‘দেশে একটা প্রবাদ আছে এক কান কাটলে হাঁটে জঙ্গল দিয়ে, দুই কান কাটলে হাঁটে সবার সামনে দিয়ে। কারণ তখন তার লজ্জা সরম থাকে না। প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যে গোরস্থানের লাশও খিলখিল করে হেসে উঠবে।’

তিনি বলেন, ‘ মিডনাইট সরকারের লোকদেরও এখন লজ্জা, শরম নেই। তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করতে লজ্জাবোধ হয় না। একাদশ সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত ও বির্তর্কিত নির্বাচন। যে নির্বাচনে ভোটারদের দরকার পড়েনি। দরকার পড়েছে চতুস্পদী প্রাণীর। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন মিলে আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখে, ভোটের দিন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজ দূরে রাখা হয়েছিল সাধারণ ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়ার জন্য। সে নির্বাচনের দৃশ্য দেশি ও আর্ন্তজাতিক মিডিয়ায় কিভাকে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে তা নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীনদের জানা থাকলেও এখন সেটি চেপে গিয়ে মুখস্থ মিথ্যা কথা বলছেন।’

রিজভী বলেন, ‘জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ তামাম গণতান্ত্রিক বিশ্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সে মিডনাইট ভোটের নির্বাচনের প্রশংসা করা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বাড়লে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগনকে কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি কেন ? গত নির্বাচনে কেন বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছিল ? কেন ধানের শীষের প্রার্থীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল ? আগের রাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসন মিলে ব্যালটবাক্স ভর্তি করলো কেন ? একতরফা উপজেলা নির্বাচনে এখন ভোটাররা ভোট দিতে যায় না কেন ? প্রধানমন্ত্রী এর জবাব জনগণকে দিবেন কি ?

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।