পরিত্যক্ত কোয়াটারে কিশোরীকে গণধর্ষণ

সোমবার, এপ্রিল ৮, ২০১৯

ঢাকা: ময়নসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যাক্ত একটি কোয়াটারে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় রবিবার (৭ এপ্রিল) রাতে ধর্ষিতা কিশোরীর মা বাদী হয়ে সাত জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

পরে সোমবার (৮ এপ্রিল) মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, মাহফুজুর রহমান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। বাপ্পা ও বাবুল একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের হোসেন সিদ্দিকী।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ঘটে রবিবার শনিবার ( ৬ এপ্রিল) দ্বিবাগত রাতে ঈশ্বরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের একটি পরিত্যাক্ত কোয়াটারে।

স্থানীয়দের বরাত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ওই কিশোরীর কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ট্রেনে মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয়।

শনিবার রাতে মাহফুজ মেয়েটিকে নিয়ে সোহাগী স্টেশনে নেমে অটোরিকসা যোগে গ্রামের বাড়ি সাহেবনগর নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি তার সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানালে মাহফুজ ঢাকা পাঠানোর উদ্দেশে আবার ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশনে নিয়ে আসে।

কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনে ঘোরাফেরার সময় সুজন ও তার সহযোগীরা স্টেশনের পরিত্যক্ত একটি কোয়াটারে নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে।

পরে সেখান থেকে মেয়েটিকে একটি বাসায় নিয়ে বাবুল, বাপ্পা ও মাহফুজ পালাক্রমে ধর্ষণ করে রোববার ভোরে বাসা থেকে বের করে দেয়। একইসঙ্গে এ ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করে।

কিন্তু ওই কিশোরী বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে স্থানীয় মাতাব্বররা বিচারের আশ্বাসে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ পৌর শহরের ধামদি এলাকা থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।