জিয়ার নামেই মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরোধ

বুধবার, মার্চ ২৭, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক: ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যখন হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ঝাপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালাতে শুরু করে তখন অপ্রতিরোধ্য পাক বাহিনী। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পরও বাঙালিদের সশস্ত্র কোনো বাহিনী ছিল না।

নারকীয় হামলার পর বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বাঙালি সেনা কর্মকর্তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং তাদের সীমিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। কিন্তু দ্রুত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা অনুভব করে এভাবে অ-পরিকল্পিত আক্রমণ ও প্রতিরোধ শত্রুদের বড় ধরনের কোন চাপে ফেলতে পারবেনা, সুতরাং তারা সম্পূর্ণ দেশকে কিছু সেক্টর এ ভাগ করে সুসংহত ভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। এমন পরিস্থিতিতে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধের জন্যে কিছু ব্রিগেড গঠনের এর সিদ্ধান্ত নেয় বিশেষভাবে সম্মুখ যুদ্ধের জন্যে।

পরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তে নিয়মিত পদাতিক একটি ব্রিগেড তৈরির সিদ্ধান্ত হলো। সিনিয়রিটি বিবেচনায় কর্নেল জিয়াউর রহমানের নামেই গঠিত হয় প্রথম ফোর্স- ‘জেড ফোর্স’ (Z-Force)। যুদ্ধকালীন পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্নেল জিয়াউর রহমান, কর্নেল সফিউল্লাহ ও কর্নেল খালেদ মোশাররফ– এই তিনজনের মধ্যে আর্মি নম্বরে সিনিয়র ছিলেন জিয়াউর রহমান।

এছাড়াও আরেকটি কারণ ছিল, তা হলো- এই সিদ্ধান্তের আগেই স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই চট্টগ্রামে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন জিয়া রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি সৈনিকরা।

তত্কালীন মেজর জিয়ার নেতৃত্বে জেড ফোর্স যে বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ করে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাভূত করেছে, তা স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। ‘জেড ফোর্স’ কামালপুর, বাহাদুরাবাদ ঘাট, দেওয়ানগঞ্জ থানা, চিলমারী, হাজীপাড়া, ছোটখাল, গোয়াইনঘাট, টেংরাটিলা, গোবিন্দগঞ্জ, সালুটিকর বিমানবন্দর, ধলাই চা-বাগান, ধামাই চা-বাগান, জকিগঞ্জ, আলি ময়দান, এমসি কলেজ, ভানুগাছ, কানাইয়ের ঘাট, বয়মপুর, ফুলতলা চা-বাগান, বড়লেখা, লাতু, সাগরনাল চা-বাগান ইত্যাদি স্থানে পাক সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আমরা ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ করি। এরপর মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ৯ মাস জীবনবাজি রেখে অস্ত্র হাতে বীরের মতো লড়াই করে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে আনি।

স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের দশম খণ্ডে ‘জেড ফোর্স’ গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ এ সম্পর্কে লেখেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম ব্রিগেড ‘জেড’ ফোর্স গঠিত হয় একাত্তরের ৭ই জুলাই। মেজর জিয়াউর রহমানের নামানুসারে এই ব্রিগেডের নামকরণ করা হয় ‘জেড’ ফোর্স (জিয়া ফোর্স)। বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘জেড’ ফোর্স এক বিশেষ অবদান রেখেছে। এই ফোর্সে তিনটি নিয়মিত পদাতিক বাহিনী ছিল— প্রথম ইস্টবেঙ্গল, তৃতীয় ইস্টবেঙ্গল এবং অষ্টম ইস্টবেঙ্গল ব্যাটালিয়ন।

তাজউদ্দিন আহমেদ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধকে স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন। নৌ, স্থল ও বিমানবাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধব্যুহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী ও বীর চট্টলার ভাইবোনেরা যে সাহসিকতার সঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করেছে, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই প্রতিরোধ স্ট্যালিনগ্রাডের পাশে স্থান পাবে।

তথ্য প্রাপ্ত
স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের দশম খণ্ড
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক বই
শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় পত্রিকা
উইকিপিডিয়া
কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম