সুচিকিৎসার জন্য হলেও বেগম জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন

বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯

ঢাকা: ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আন্দোলন থেকে বিরত থাকার জন্য সরকার ছাত্রদের যে কথা দিয়েছিল। তারা সেই কথা রাখে নাই। সেই জন্যই নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে ছেলেটি রাস্তায় নেমেছিল, তাকে জীবন দিতে হয়েছে। আমরা এই আন্দোলনের পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি এবং সরকারকে ছাত্রদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।’

বুধবার (২০মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ভবনের তৃতীয় তলায় স্বাধীনতা হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবিলম্বে সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে’ প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আববারের রক্তে আবারও প্রমাণিত হলো দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন,‘এই সরকার জনগণের সরকার নয়। ফ্যাঁসিবাদী সরকার। তাই তারা যা বলে তা করে না। আর এজন্যই সড়কে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। ডাকসু নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন সকল ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। অস্বাভাবিক সরকারের আমলে অস্বাভাবিক ঘটনা অতি স্বাভাবিক। তবে এই অস্বাভাবিক ঘটনা বেশিদিন চলতে পারে না।’

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘সুচিকিৎসার জন্য হলেও বেগম জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন। তার মুক্তির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলকে আরও শক্তিশালী মজবুত করে লড়াইয়ে নামতে হবে।এই লড়াই শুধু খালেদা জিয়াকে মুক্তি জন্য নয়। এই লড়াই হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার লড়াই।’

মানুষের ভোটের অনীহার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস দেখেন, স্বাধীনতার পরে যে নির্বাচন হলো সেখানে মাত্র ৬ জন বিরোধী দলকে রেখে সব তারা লুট করে নিয়ে গেছে। সেই লুট হয়েছিল দিনে আর এবার ২০১৮ সালে লুট হয়েছে ভোটের আগের দিন রাতে। অতীতে সেই ছয়জনকে ও তারাসহ করতে পারেনি।একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। সকল সংবাদ পত্র বাতিল করে দিয়েছিল শুধু মাত্র চারটি সংবাদপত্র। জনগণের ভোটের সেই অধিকার কে হত্যা করেছে বাকশাল কায়েম এর মধ্য দিয়ে। আর জিয়াউর রহমান সেই একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।’

গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে বিএনপির কাছে বিরাট একটা সুযোগ চলে আসছে উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন,‘অনেকে আমাদের হতাশ মনে করছেন তবে আমরা হতাশ নই আমরা হতবাক। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠার জন্য আমাদের দলকে পুনর্গঠনসহ নানা প্রক্রিয়ায় দলকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন ছাড়া কোন বিকল্প নেই তাই আমাদেরকে প্রস্তুত হতে হবে। আরেকটি সংগ্রাম ছাড়া আর কোন পথ নেই।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা হাজী মাসুক মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কৃষক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাবির তুহিন বক্তব্য রাখেন।