‘মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা টিপে ধরা বন্ধ করা উচিত’

বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর খেয়ালখুশি মতো দমনপীড়ন চলছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের গ্রেফতার উদ্ধৃতি দিয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইচআরডব্লিউ’র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলী।

কিরণের গ্রেফতার তিনি একটি কলাম লিখেছেন। যেটি এইচআরডব্লিউ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

মিনাক্ষী গাঙ্গুলী তাতে উল্লেখ্য করেন, এ সপ্তাহান্তে মাহফুজা আখতার কিরণকে গ্রেফতার দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ কিভাবে ক্রমবর্ধমান হারে কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার ভিত্তিহীন অভিযোগে যে কাউকে জেলে যেতে হতে পারে।

কিরণকে গ্রেফতার করা মত প্রকাশের ওপর খেয়ালখুশি মতো দমনপীড়নের আরেকটি উদাহরণ। মিনাক্ষী বলেন, ‌বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন কিরণ। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব ফুটবলের পরিচালনা পরিষদ ফিফার একজন কাউন্সিল সদস্যও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানহানি ঘটিয়েছেন এই অভিযোগে গত ১৬ই মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৮ই মার্চ একাত্তর টিভি একটি অডিও রেকর্র্ডিং সম্প্রচার করে। বলা হয় তাতে কিরণ অভিযোগ করেছেন, ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটকে বেশি অগ্রাধিকার দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের চেয়ে তাই রাষ্ট্রীয় সমর্থন বেশি পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু একজন স্পোর্টস বিষয়ক কর্মকর্তার এই বিষয়টি শিগগিরই বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর খেয়ালখুশি মতো দমনপীড়নের আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

কিরণকে নিয়ে আরও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ’র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এই পরিচালক। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মর্যাদাহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকজন স্থানীয় স্পোর্টস বিষয়ক কর্মকর্তা একটি মামলা করেন। এরপর কিরণকে গ্রেফতারকরা হয়। প্রাথমিকভাবে তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পাঠিয়ে দেয়া হয় জেলে। তিন দিন জেলে থাকার পর ১৯শে মার্চ শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন কিরণ। এখনও তিনি ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন এবং তার মন্তব্যের কারণে হয়তো অভিযুক্তও হতে পারেন।

মিনাক্ষী ফটোসাংবাদিক ড. শহিদুল আলমের বিষয়টি উল্লেখ্য করেন, ‘এই গ্রেফতারগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক শীতল প্রভাব রাখে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের মধ্যে। প্রসিদ্ধ মানবাধিকারকর্মী ও ফটোসাংবাদিক ড. শহিদুল আলমকে ২০১৮ সালের আগস্টে গ্রেফার করা হয়। তাকে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে ১০২ দিন জেলে আটকে রাখা হয়। এই আইনটি এত বেশি অপব্যবহার হয়েছে যে, সরকার পর্যন্ত এটাকে বাতিল করতে রাজি হয়।’

এর পরিবর্তে ২০১৮ সালের অক্টোবরে পাস হয় নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে এতে রয়েছে ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ। সাংবাদিকদের অভিযোগ, এই আইনটি কার্যকরভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধার সৃষ্টি করে।

তাই মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা টিপে ধরা বন্ধ করা উচিত বাংলাদেশের। এরই মধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট উপায়ে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার অভিযোগ আছে সরকারের বিরুদ্ধে। তাই শেখ হাসিনা সরকারের উচিত এটা অনুধাবন করা যে, শহিদুল আলম থেকে মাহফুজা কিরণ- প্রতিটি পক্ষপাতদুষ্ট গ্রেফতারের শুধুই বাংলাদেশের সুনামকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করবে।