ব্যবসায়ী হত্যায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯

ঢাকা : জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাজধানীর দোহারে বস্ত্র ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আরো দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী সাহানারা ইয়াসমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিরাজ ওরফে সেরু কারিগর, মিনহাজ ওরফে মিনু, খলিল কারিগর, শাহজাহান কারিগর, দিদার, এরশাদ, কালু ওরফে কুটি কারিগর, আজাহার কারিগর, মিয়াজ উদ্দিন, মোজাম্মেল ওরফে সুজা, আ. জলিল কারিগর, জালাল, বিল্লাল, ইব্রাহিম ও আ. লতিফ।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- চায়না বেগম ও মজিদন ওরফে মাজেদা। দু’জনেই পলাতক রয়েছেন।

আদালত যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে- দিদার, এরশাদ , আ. জলিল কারিগর, ইব্রাহিম পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের সাজা পরোয়ানা ইস্যু করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ সালের ৩ এপ্রিল সকালে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মামা মামলার বাদী ডা. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের মোবাইল ফোনে কথা হয়। সে সময় তারা মামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ১৫ মিনিট পরে নাজিম উদ্দিনের বড় বোন চন্দ্রবান ফোন দিয়ে তাকে জানান আসামি সিরাজ নজরুল ও তার স্ত্রী-পুত্রকে মারপিট করছে। নজরুলের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে জয়পাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নজরুলকে মাইক্রোবাসে করে ঢামেকে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি তার মামাকে জানান, আসামিরা তাকে লোহার রড, লাঠি, হাতুড়ি ইত্যাদি দিয়ে পিটিয়ে হাতে, পায়ে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত করে। তার স্ত্রী সূর্যবানুকে মারপিট করা হয় বলেও জানান। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নজরুলকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওই দিনই নিহত নজরুলের মামা ডা. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ দোহার থানায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ২৬ জুলাই জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই আনোয়ারুল করিম এজাহারনামীয় ১৫ আসামিসহ ইব্রাহিম, লতিফ এবং চায়না বেগমকে সম্পৃক্ত করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটির বিচার চলাকালে ফৈমুদ্দিন নামে এক আসামি মারা যান। এরপরের বছর ২৫ মে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটিতে বিভিন্ন সময় আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন কাজী শাহানারা ইয়াসমিন।