১৯ জন ভিপি প্রার্থীর চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছেন ছাত্রদলের কানেতা ইয়া লাম লাম

সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯

ঢাকা : তার নিজ প্যানেলের ভিপি ও জিএসের মোট ভোটের কয়েকগুণ বেশি ভোট তার

ডাকসুতে মোট ভিপি প্রার্থী ছিলেন ২১ জন। তার মধ্যে ১৯ জন ভিপি প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪,৬১১টি। আর কানেতা ইয়া লাম লাম কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে একাই পেয়েছেন ৭ হাজার ১১৯ ভোট। যেখানে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তা‌ফিজ পেয়েছেন ২৪৫ ভোট, জিএস অ‌নিক পেয়েছেন ৪৬২ ভোট। বামজোটের লিটন নন্দী পেয়েছেন ১২১৬ ভোট আর এ‌জিএস ফয়সাল- ২৪৭ ভোট, স্বতন্ত্র জিএস আসিফুর রহমান রহমান- ৪৬২৮ ভোট।

কানেতা ইয়া লাম লাম তার ব্যতিক্রমি নাম, নারী প্রার্থী, ভদ্র আচরণ ও মিশুক স্বভাবের হওয়ায় এই ভোট পেয়েছেন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

ভোটের পরিমাণ

১১ মার্চের ডাকসু নির্বাচনের আগে ঢাবি ক্যাম্পাসের সবার মুখে মুখে ছিল কানেতা ইয়া লাম লামের মুখ।

তার আচরণ ও সুমিষ্ট ভাষায় মুগ্ধ হয়ে ফেইসবুকেও তাকে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে অনেকেই স্ট্যাটাস দেন।

ছাত্রদলের প্যানেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ভিপি (সহ-সভাপতি) ও আনিসুর রহমান খন্দকার অনিককে জিএস (সাধারণ সম্পাদক) করে ঘোষিত এই প্যানেলের একমাত্র নারী প্রতিনিধি কানেতা ইয়া লাম-লাম।

তার এই পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে শরিয়তপুরের মেয়ে বিএম লিপি আক্তার। তিনি পেয়েছেন ৮৫২৪ ভোট। মাত্র ১৪০০ ভোটে পরাজিত হন কানেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী কানেতা ইয়া লাম-লাম।

কানেতা ইয়া লাম-লাম জানান, আমার বাবা ডাকসুর সাবেক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তার দেখানো পথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যারা আমাকে আশা করে ভোট দিয়েছিলেন, আমাকে নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, দিন রাত আমার জন্য পরিশ্রম করেছেন তাদের কে শুকরিয়া জানানোর আমার ভাষা নেই। ক্ষমতা, অর্থ, পদ সব ই ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যে যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি হয়ত বাকি জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকলো। সামনে এগিয়ে চলার পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

কানেতা বলেন, ঢাবিয়ান রা বুঝতে পারো আমাদের মনের ব্যাথা? যেদিন তুমুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বাপ্পির নামের পাশে দেখেছিলাম সামান্য কিছু ভোটের ফিগার ? এই তস্কররা সেদিনও জাগ্রত ছিল। জাগ্রত ছিলেনা তোমরা। হাস্যরসে মেতে ছিলে। আমাকে ১৪০০ ভোটে হারানো হল। মানে হার দেখানো হল। আমার কষ্ট নাই কোন। চোখে পানিও নাই। এটা হবে জানতাম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে। ৭১০০+ ভোট টা যারা দিয়েছেন। কষ্ট করেছেন সবাই কে ধন্যবাদ!

ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই তাকে ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদের একটিতে দেখতে চাচ্ছেন।