সপ্তাহে ৩টির বেশি ডিম খেলে বাড়বে মৃত্যুঝুঁকি!

সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯

স্বাস্থ্য ডেস্ক: কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততার শেষ নেই। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে ঘুরে তাদের প্রতিদিনের জীবন। আর সেই ব্যস্ততায় খাওয়াদাওয়ায় হয় কিছুটা অনিয়ম। তাড়াহুড়ো করে অনেক সময় একটি ডিম ভাজি দিয়েই দুমুঠো ভাত মুখে দিয়ে অফিদের ‍দিকে ছুটতে থাকে অনেকেই।

একটি বড় আকৃতির ডিমে ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। আর সেই ডিম ভাজতে লাগে বড়জোড় ৫ মিনিট। যারা সিঙ্গেল অর্থাৎ পরিবার ছাড়া মেসে কিংবা আলাদা রুম ভাড়া নিয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি। অন্যকিছু রান্নার ঝামেলা এড়াতে হুট করেই একটি ডিম চড়িয়ে দেন। ঝটপট খাওয়াও শেষ। কিন্তু এই ডিমেই যে মরণ ডেকে আনতে পারে সেটি কি একবারও ভেবেছেন?

গত ১৫ মার্চ মেডিকেল জার্নাল ‘জেএএমএ’তে প্রকাশি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সপ্তাহে যারা তিনটি অথবা তার বেশি ডিম খান অথবা প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ডায়েটারি কোলেস্টেরল গ্রহণ করেন, তাদের হৃদপিণ্ডের সমস্যায় ভোগার এবং অকালে মৃত্যুবরণ করার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিন এর পোস্টডক্টোরিয়াল ফেলো ভিকটর ঝং এই গবেষণাটির মূল গবেষক।

ঝং মনে করেন, ডিম, বিশেষ করে কুসুম হলো ডায়েটারি কোলেস্টেরলের অন্যতম উৎস।’

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২ হাজার ৯০০ মানুষের ওপর ১৭ বছর তথ্য সংগ্রহ করে এই গবেষণা করা হয়। গবেষকরা ছয়টি স্টাডি গ্রুপের থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ডায়েটারি কোলেস্টেরল গ্রহণ করেছেন, তাদের অন্যদের তুলনায় হৃদপিণ্ডের রোগের ঝুঁকি ৩.২% বেশি এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ৪.৪% বেশি থামে।

আর শুধু যে ডিম খেলেই মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে তা-ও কিন্তু নয়। গবেষকরা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ার ক্ষেত্রে ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম না করার বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে কোলেস্টেরলের ঘাটতি পূরণে ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ডিম খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সেটি পরিমাণ মতো।