যত্ন নিন নাকের ত্বকের

সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : মুখের ত্বকের যত্ন তো কম বেশি সব সময়েই নেয়া হয়। কিন্তু খুব খেয়াল না করা হলেও মুখের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাক ও এর ত্বক।

দেখা যায় মুখের অন্য স্থানগুলো ঠিকই বেশি উজ্জ্বল থাকে কিন্তু নাকের দুই ভাঁজ কালো ও ব্রণ এবং পুরো নাকে ব্রণ, র‍্যাশ, লাল হয়ে যাওয়া, প্যাচ, ফাটা ত্বক, ছোট ছোট চামড়া ওঠা, ব্ল্যাকহেড্স, হোয়াইট হেড্স হয়।

নাকের দুই পাশে যে ড্রাইনেস, ফাটা চামড়া ওঠা, লালচে ভাব দেখা যায়, তার মূল কারণ আবহাওয়া। শীত বা ঠাণ্ডায় এই ধরনের সমস্যা বাড়ে। শুষ্ক নাক খুব সাধারণ একটা সমস্যা, যা বহু মানুষের সারাবছর জুড়ে দেখা যায়। আর আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় আরো বাড়ে। কীভাবে নাকের যত্ন নেবেন, রইল কয়েকটি পরামর্শ।

প্রথমে হালকা গরম পানি নিয়ে নাকটা ভিজিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এবার একটা ভেজা নরম কাপড় দিয়ে হালকা করে ঘষুন। আবার খালি হাত ছাড়াও স্ক্রাবার আঙুলে নিয়ে ঘষা যেতে পারে।

চালের গুঁড়ো অথবা চিনি, সঙ্গে পাকা কলা চটকে নিয়ে নাকে ঘষতে পারেন। আবার বাজারে পাওয়া স্ক্রাবার নিতে পারেন।

কোনো ক্ষার সাবান মুখে বা নাকের অংশে না ব্যবহার করাই ভাল। তার পরিবর্তে মাইল্ড ফেসওয়াশ বা ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ, কড়া সুগন্ধী বা অ্যালকোহল যুক্ত ক্লেনজারও এড়িয়ে চলুন। নাক টাওয়েল দিয়ে চাপ দেয়ার মতো করে মুছুন।

এবার একটা বরফের টুকরো পাতলা কাপড় মুড়ে নাক এবং চারপাশটা হালকা করে লাগান। সরাসরি বরফ নাকে দেবেন না। এরপর ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে।

প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ভাল ত্বকের জন্য। সূর্যমুখী বীজের তেল, সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নাক ম্যাসাজ করলে ভাল ফল পাবেন।

খাঁটি মধু খুব ভাল নাকের শুষ্ক ত্বকের জন্য। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি, যা নাকের ত্বকের ময়েশ্চারকে লক করে রাখতে সাহায্য করে।

ময়েশ্চারাইজার দিনে ২,৩ বার লাগাতে হবে যতদিন পর্যন্ত না ত্বকের শুষ্কতা চলে যায়। রাতে ঘুমানোর আগে পেট্রোলিয়াম জেলি জাতীয় ঘন কিছু লাগিয়ে নিলে উপকার পাবেন।

নাকের ত্বক যদি খুব শুষ্ক হয় ও ফাটা হয়, তাহলে ল্যাকটিক অ্যাসিড ও ইউরিয়া যুক্ত ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে নিতে ভুলবেন না কারণ খুব ড্রাই নাকের ত্বকের কারণটা সোরিয়াসিস অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসও হতে পারে।

নাকের শুষ্ক ত্বক থেকে লালচে ভাব, লাল র‍্যাশ, ফোড়া এগুলো হচ্ছে কি না লক্ষ রাখুন। এগুলো একধরনের স্কিন ইনফেকশন, তাই সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নাক খুব বেশি ড্রাই হলে বেশিবার মুখ ধোয়া বা ওই অংশে পানি দেয়া উচিত নয়। এতে ত্বকের উপরের তেল নিঃসরণ আরো কমে যায় ও শুষ্ক হয়ে যায়। খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। নাকের ত্বকের জন্য এসপিএফ ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন ভাল।

যারা মুখের লোম তোলেন, তাদের নাকের ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লোম তোলার পর নরম তোয়ালে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে হালকা মুখে চাপ দিন এবং হাইপো অ্যালার্জেনিক জেল লাগিয়ে নিন।

নাকের গোড়ায় ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস বড় সমস্যা। নাকের লোমকূপের মুখে তেল, ময়লা জমে ব্ল্যাকহেডস তৈরি হয়। আবার ব্রণ হলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়, তার থেকেও হতে পারে। মৃতকোষ লোমকূপে থেকে গেলে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস হয়। পিরিয়ডের সময় হরমোনাল পরিবর্তন হলেও ব্ল্যাকহেডস হয়।

এছাড়া বার্থ কন্ট্রোল পিল নিয়মিত খেলে অনেক সময় তেল নিঃসরণ বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রেও ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস হতে পারে। আবার কোনো বিশেষ গ্রুপের ওষুধ থেকে নাকের ত্বকে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস হয়।

কীভাবে দূর করবেন

ব্ল্যাকহেড্‌স দূর করতে দুটো ডিমের সাদা অংশ, লেবুর রস ২ চা চামচ নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে নাকের চারপাশে ভাল করে লাগিয়ে ওপরে একটা টিস্যু পেপার চেপে বসিয়ে দিন। এবার টিস্যুর ওপর থেকে আবার ডিম আর লেবুর একটা আবরণ দিন। উপরে আর একটা টিস্যু চেপে আটকে দিন। শুকিয়ে গেলে টিস্যু ধরে টেনে তুলে ফেলুন।